শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬


 রক্তিম রঙপেন্সিল

__________________________

    -নাজমুস সাঈদ


আমি একটা আকাশ আঁকবো
যেথা মেঘ করবে খেলা অবেলায়,
পাখি উড়বে ডানা মেলে প্রভাতে'
চাঁদ হাসবে মৃদু আলো সাথে;
আমি ছাদে বসে জোছনা মাখবো-
আর আকাশ আঁকবো!

আমি একটা আকাশ আকঁবো
যার বুকে ধারিত হবে অজশ্র তারা,
প্রশ্নবিদ্ধ নিষিদ্ধ রাতগুলো
বিয়ারের বদৌলেতে আমি তুলি রাখবো;
আর আকাশ আঁকবো!

রক্তিম সূর্য কিংবা গধূলীর রক্তিমায়,
কীটের মতো টেনে হিচড়ে হটাবো ধূলি,
গ্রাফিক্সের দৌলতে জড়ের মুখে ফোটাবো বুলি!
দূষিত পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য কীটজ,কীট্রজ
ক্যাটানল বহির্ভূত যত রক্তিম রহস্য,
আঁকাবো, ফোটাবো,মেলাবো,জ্বালাবো দূর্দশাই কালি
কালো আকাশের মেঘ হটিয়ে নীলই রাখবো,
আর আকাশ আঁকবো!

তনু,খাদিজার রক্ত'গধুলীর রং
জেলিনের মায়ের অশ্রু'তার্পিন,
রক্ত,অশ্রু মিলে মিশে একাকার-
রং কি হবে? এই তো রং,
নিরব আর্টে হাহাকারেই ছত্র দাগবো,
আর আকাশ আঁকবো।


       তেলাপোকার ঝোল

________________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ


প্রভাত হতেই ঘুমের ব্যাঘাত, কলিংবেলের শব্দ,
একের পর এক আসছে মানুষ, করছে আমায় জব্দ;
আমি আবার ঘুম কাতুরে, হচ্ছি পুরোই দগ্ধ
চলছে তবু অবিরত, কলিংবেলের শব্দ।
আজ বুঝি আর ঘুম হবেনা, বুঝছি অতি সদ্য,
বাড়িরই আজ অনুষ্ঠানে, চলছে পনির মদ্য,
এমনভাবে ঘুম ভাঙালো, মানছিনা আর অতি;
এই ঘটনার প্রতিশোধের নিলাম প্রতিশ্রুতি।

পিঠা, পুলি, পনির পানে সবার মুখেই হাসি,
ফুলছি আমি, ঘুম ভাঙ্গালি? আসুক সন্ধা-নিশী,
খুজছি সুযোগ, রান্নাঘরে, দিচ্ছি উকি সাঝে,
কাজের মামা ব্যস্ত অতি বিরাম যে নেই কাজে;
বলি, ও মামা, শ্রান্ত তুমি, বসো তো ঔ খানে,
দেখছি আমি রান্না তোমার, সমস্যাতে আওয়াজ দিও খনে

এতক্ষনে ফুটলো ঠোটে একটু হাসির রেখা,
তরকারিতে ঝালের সাথে, দিলাম তেলাপোকা!
খাবার ঘরে খাচ্ছে সবাই কোরমা, পোলাও, রোল;
হাসছি আমি, ভেবেই সারা, তেলাপোকার ঝোল!

          বদলাতে চাই

______________________________________

             -নাজমুস সাঈদ



বৃক্ষের দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
নদীর পানে চেয়ে, আমি হয়ে হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
ঝরনার দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি ঝরনার বৃষ্টি বদলাতে চাই!
প্রকৃতির দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি পৃথিবীর সৃষ্টি বদলাতে চাই!

গাছ-নদী-ফুল, ঝরনা অকূল, দেখেছি কুড়ে ঘর,
দেখেছি নদীর পাশ কেটে ওঠা নির্মল বালুচর।
দেখেছি সবি দেখিনাই শুধু পড়ে থাকা পথশিশু
প্রকৃতির পানে চেয়েছি শুধুই, দেখা হয়নাই কিছু।

একদিন বসে বৃক্ষছায়ায়, হাতে নিয়ে দুটি রুটি,
দেখছিনু বসে পথশিশুদের, ফুল নিয়ে ছোটাছুটি,
এক ছেলে এসে, দৌড়ে কাছে, জড়ায়ে ধরলো হাত,
ভাইয়া আমি ক্ষুধার্ত ভারি, খাইনিকো দুই রাত;
এই নিন ফুল, আমার গাছের, তুলেছিলো বোন কুটি-
বদৌলেতে দিন খাবার আমায় ঔ হাতে থাকা রুটি।

পড়লো ঝরে অশ্রু ফোটা চোখ হতে মোর হাতে,
আমি খেয়েছিনু গোস্ত পোলাও গত দুইতিন রাতে!
এ খাবার কার, কে করে আহার? গরিবের চোখে জল!
দেখেছিনু চেয়ে ছোট্ট শিশুর চোখ করে টলমল।
দিয়ে রুটিদ্বয় বললাম, 'বাবু, লাগবেনা এই ফুল,
দিয়েছ ফিরিয়ে বিবেক আমার,সবি ছিলো মোর ভুল।'
থেকো ভালো সদা করে হাসিমুখ, আহার যদি না জোটে,
চলে এসো এই গরীবখানায় খেয়ে নিবো এক পটে;
আমার আহারে  উদরপূর্তি করে যদি এই শিশু
প্রশান্তিময় এর থেকে আর,ভবে নেই কোন কিছু।

                 মানুষ

_________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ




ছোট্ট ঘরের কোনগুলো আজ নিরব নিথর ভবে
বাবা-মায়ের শত শত স্মৃতি অবেলায় পড়ে রবে,
আমি আর আমার ছোট সংসারে একটু শোকের দিশা
কেটে যাবে তাও সময়ের সাথে ভুলে যাবে অমানিশা,
পুড়ব আমি একলা শুধুই আমার মায়ের স্মৃতি
কোলে করে মাতা করেছে বড়,  হইনিকো যথারিতী।
💜
মানুষ হয়ে নিয়েছি জন্ম, মানবতা নিয়ে হয়নি,
আমার বাবার সত্য-নিতী আমি বারেবারে পায়নি;
মানুষের মত দেখতে সবাই হয় কি মানুষ সবে,
একি গঠনের গ্রন্থদ্বয়ে কি, একি লেখা পড়ে রবে?
জমজ বলে কি এক ভাই হবে অন্যের প্রতিচ্ছবি,
একি গঠনের আলো দেয় কিগো চাঁদ মামা আর রবি?
💜
আমি কুৎসিত, কদাকার আমি, এ কি মোর পরিচয়,
সুন্দর সেত মাকাল ফলও, বৃথা কেন পড়ে রয়?
গায়ের রঙটা কালো কি সাদা, কি যায় তাতে আসে?
চেয়ে দেখো ঐ কালো মুখপানে, মায়া ভরা অভিলাষে!
সাদা রং সে তো হয় কালো-লাল ক্রোধ,ভয়,লজ্জায়
কালো রং সে তো একি থাকে সদা, শত ভুল অভিপ্রায়।
💜
তুমি শ্বেতাঙ্গ আমি কৃষ্ণ দুয়ের মুখেই হাসি,
একি স্রষ্টার হাতে গড়া সবি হাসি মুখে একরাশি,
তুমি বড় বড় প্রসাদের রাজা, আমি কুড়ে ঘরে থাকি,
তোমার অন্ন, রয় অনন্য, গরীবের পেটে লাথি!
আমি কুড়েঘরে হাসি মৃদুভাবে, দেখে ঐ চুনকালি,
সামনে যতই সম্মান পাও, পশ্চাতে পাও গালি!
তুমি মহারাজা, সর্বেসর্বা ! তুমিই বড় ভিক্ষারী,
গরীবের বুকে পা দিয়ে তোমার আজ এত বাহাদুরি।
💜
আমি ছোটজন, ভিখারি তো নই, আছে মোর দৃঢ় মন,
সব মানুষেরে সমাদর করি, সবে মোর প্রিয়জন;
মানুষ আমি, আমি মানবিক, গতর খাটিয়ে খাই
হোক না কৃষ্ণ, কুৎসিত মুখ, মানবতা অভিপ্রায়। 💜


                   বন্ধু

_______________________________________

                -নাজমুস সাঈদ



প্রতিদান চাই না আমি, চাই ফিরে আমার শৈশব
বন্ধুসকল কত জাগরণ, শত সুখময় স্মৃতি ঐসব।

বাধা ছিল সব একি ডোরে, আজ হয়ে গেছি একঘরে;
ছিলো ছন্দ, মনের দ্বন্দ্ব, ছিলো আশা-দূরাশার গন্ধ,
ছিলো মারামারি ভরা দিনতো, আমি ভুলিতে পারিনি কিন্ত।

কত টিফিনে বসানো ভাগ, আর মালিকের শত রাগ,
আজ ফিকে হয়ে গেছে স্মৃতি, আমি ভাবছি যথারীতি।

ছিলো শান্ত, দুরন্ত,  দস্যিপনায় দক্ষ,
হাসিখুশি রাখতো মোদের, অনাবিল শ্রেণীকক্ষ।
ছিলো সৌরভ, নাজমুল-হাদি, ছিলো কাটাহেরীকান্ত,

মতি সেপু ইতি সুনিবিড় স্মৃতি, আজও রয়ে গেছে শান্ত!
নান্টু আসিক বেজায় রসিক,ছিলো সাথি মোর খেলার
মনে পড়ে আজও শত রসিকতা,মোর ঐ ছোটবেলার।

নিশী-মনি-মিম, বিথী-সাথি, আরও ছিলো মনি কিন্তু
হাবাগোবা ছিলো ছোট রিমী বুড়ি, ছিলো হাসি খুশি রিন্তু।

এলেম খোকন তোহা আনন্দ, আরও ছিলো রাজু ভাই
স্মৃতি সব আজ, করছে বিরাজ, ভুলতে তো পারি নাই।

সাওদা মনির নেকু নেকু কথা, কেরানি কাকুর হিসাবের খাতা
ফিকে আজ সব, রঙহীন সব, পড়ে আছি বহু দূরে
মনে পড়ে তবু স্মৃতি আম্লান, মনের আস্তাকুড়ে।
কফি কাপ আজও হাতে আছে শুধু নেইক তো সেইদিন
পাতা উল্টালে স্মৃতির খাতা, পড়ে রবে অমলিন!


শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিদায়ী কাব্য


              বিদায়ী কাব্য

_____________________________________
               - নাজমুস সাঈদ


আজকে বিদায় বেলায়-
এক হয়েছি আমরা সবাই প্রান্ত মিলনমেলায়,
আগামির ফুল ফোটাবি তোরাই
কুসুমে ফোটাবি প্রাণ
দেশও জাতির কান্তারি তোরা
প্রাণের রাখবি মান।

ভবিষ্যতের তোরাই কবি,তোরাই সাহিত্যিক
তোরাই জাতির বিবেকবোধ আর তোরাই দিক্বিদিক।

এখান থেকে বিদায় নিয়ে হাটবি নতুন পথে
ছিটিয়ে যাবি দিক্বিদিকে কেউ রবিনা সাথে।
স্মৃতির পাতা উল্টালে তবু পাবি আমাদের নাম,
নিন্মে পড়ে থাকলে কেহ দিবিনা তার দাম?

বড় হো তবু আকাশ সমান এই আশাতেই থাকি,
তোদের সবার জন্য আমি সুভকামনা রাখি;
জাতীর মুক্তি,জাতির প্রাপ্তি তোদের প্রত্যাশাতে
সম্মান তব জাতিসত্তার বইবে তোদের সাথে।

তোরা মুক্তির কান্ডারী দূত তোরাই তরুন সমাজ,
অতিতের কথা মনে করে বাচ
মনে মনে পাবি পরিমিত লাজ
তোদের বয়সে দিয়ে গেছে তারা তরুন তাজা প্রাণ,
তোরাও দিবি রাখতে সদা জাতিসত্মার মান।

জাতির বিবেক ম্লান করে আজ খুন হয় ছোট শিশু,
হে ভবিষ্যতের কর্নধারী করার কি নেয় কিছু?
অন্যায় আর অত্যাচারের করে যাবি প্রতিবাদ
জীবন দিয়েই নিয়ে যাবি তোরা মুক্তির মহাস্বাদ।

পারববিনা আজ কথা দিতে তোরা চলবিনা ভুল পথে?
বন্ধুগণ চল হাত তুলি আজ এই মহাশপথে-
চলব সদা নির্ভীক আর সত্যনিষ্ঠ মনে
বিবেকবোধ এর মৃত্যু হতে দেবনা কনোক্ষনে,
রাখব জাতির সম্মান আর জাতিসত্তার মান
দরকার হলে দিয়ে যাবো সবে আমাদের তাজা প্রাণ,
ঘুষের টাকায় গড়বোনা কেহ সম্পদেরই পাহাড়,
ন্যায়বোধটুকু দেবনা ক্ষয়িতে যদিওনা জোটে আহার।

অনেক দিনের পথচলাতে রইলি মোদের সাথে,
নতুন আশার দিশাই তোরা ছুটবি নতুন পথে,
পিছন ফিরে দেখবিনা কভু কি আছে স্মৃতির পাতাই
দেখবিনা কভু কি লেখা আছে মুক্ত মনের খাতাই।

সবার কথা ভেবে আজ তোরা খুলে দে নিজ মন
কত আশাই বুক বেধেছে তোদের আপনজন।
দেখেছিস কি তাকিয়ে কভু মায়ের চোখের দিকে?
কত আশা, স্বপ্ন কত বয়ছে একেবেকে।
তোরাই দিবি মায়ের চোখের প্রতি ফোটার দাম,
দেশজনতা বন্ধুসকল করবে তোদের নাম।

শেষের বেলা দূঃখ নিয়ে বলছি আপন মনে,
তোদের কথা পড়বে মনে পুড়বো ক্ষনে ক্ষনে,
স্বরবো তবু তোদের কথা পড়ে মোর এই পদ্য-
স্মৃতির পাতাই রয়ে যাবে নাম,হবে তা অবিচ্ছেদ্য।


(উৎসর্গঃ কোর কেয়ার কোচিং এর বিদায়কালে বন্ধুদের )


আয়য়রে সখি আয়

 আয়রে সখি আয়

______________________
     - নাজমুস সাঈদ


আয়রে সখি আয়
প্রাণের সাথে প্রাণ মেলাবি
দুখ ভোলাবি তাই,
আয়রে সখি আয়।

অাখি যুগল অশ্রুসজল
তোর দুচোখে মায়ার কাজল,
ঐ দুহাতে মুছবি আঁখি
ভুলবো ব্যাথা তাই,
আয়রে সখি আয়।

দেখবো তোকে দুচোখ ভরে
অবাক চোখে অন্ধকারে
থাকবিনা তুই প্রাণের মাঝে
আমার অভিপ্রায়,
আয়রে সখি আয়।
.
চোখের জলে নাও ভাসাবি
আমিরে সেই নাউয়ের মাঝি
অশ্রু মুছে আনবো হাসি
এর কোন ভুল নাই,
আয়রে সখি আয়।

বালিকা


                 বালিকা

_______________________________________
           

               -নাজমুস সাঈদ


বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার
ক্ষুদ্র কুটিরে যখন সাপ খেলা করে নিংড়িয়ে আধার-
বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার।
.
আমার কলাপাতার আচ্ছাদনে ঢাকা শৈশব ছিলো,
বই খাতাতে মনোযোগী এক কৈশোর ছিলো,
এখন যুবক আমি -
তোমার ঘ্রাণে আপ্লুত হয়েছি ক্ষণকাল আগে
যৌবন মোর উপচে পড়া ভিড়ে নিংড়ে নিংড়ে হাটে,
ফুল দেখেছি, দেখেছি হালকা বাতাসে পাতার নড়ন-
আস্তে আস্তে হয়েছি বড়,পাতা ঝরেছে বৃক্ষের,
এই ঝরা পাতাই ঘর বেধেছি!
ভেঙ্গেছি!
আবার গড়েছি!
মনে আছে ফুলবন আচ্ছাদিত সেই দেওয়ালের কথা?
যেথা প্রতিটি ইটের সাক্ষী,
ভালোবাসা!
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে চিৎকার দিয়েছো
অপলক চোখে তাকিয়ে থেকেছি ঐ আখিঁর পানে!
.
বার বার জিজ্ঞায়িছো মোরে- "কেন ভালোবাস?"
বলেছি, "ভালোবাসি, তাই ভালোবাসি!"
চাঁদের আলোয় যখন জোনাকিরা খেলা করে,
পুচ্ছালোকের প্রতি জ্বলন-নিভনে নতুনত্ব খুজে পাই-
এ যেন ভালোবাসার পরশমণি!
.
বালিকা! ভালোলাগার তো কোন কারন হয়না,
"ভালোলাগে,তাই ভালোলাগে!"
তাইতো ভালোবাসি!
.
ঐ আঁখিদ্বয় করেছো কুঞ্চিত-
বোঝনি কারন তো কারন নয় এতো মনের আত্মপ্রকাশ!
তাইতো ভালোবাসার কারণ থাকতে নেই-
ফিরে তাকিয়েছি আখিঁর পানে দেখেছি নোনাজলের
সমুদ্র!
এ কান্না কি তবে মিথ্যে?
বালিকা! আমি সত্যই জেনেছি বারংবার।

খোদার কথা বল


        খোদার কথা বল

______________________________
            - নাজমুস সাঈদ


মৃত্যু আমার নিত্য সাথি,জগত জ্ঞাতীর দল
বলবেনা কেউ তোমায় রেখে,আমায় নিয়ে চল,
এ ভূবনের জ্ঞানের পাহাড়,
স্বৈরাচারীর বিলান আহার,
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল!
তাই জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

মুসলিম তোর ঐ জানাজায় শরীক যারা হয়,
হোক সে শ্রমিক হোক সে রাজায় ফেরেস্তারাও রয়।
প্রাণের আখি বন্ধ হলেই সবাই তোমার পর,
এতদিনের জমাজমি দালান বাড়িঘর;
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল,
জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

নির্মলেন্দু গুন


               নির্মলেন্দু গুণ

_________________________________________
                 - নাজমুস সাঈদ


কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে,
নিন্দুকেরা শুনে রাখ আজ, ফুটিয়ে তুলছি বিবৃতে
কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে।

বাংলাদেশের কাল বেলাতে,ফুটেছে রক্ত কবিতা,
দেখেছেন কবি অন্তরালে, নতুন আশার ছবিটা;
লিখেছেন তিনি, ভেবেছে সবাই, সংগ্রামী মনোচিত্তে,
নতুন আশা জেগেছে মননে, দূরাশা নিতিনিত্যে;

পেয়েছি নতুন দেশের মাটি সংগ্রামীদের প্রয়াসে,
কবির কলম ছিলোনা থেমে,বসে নেই তবু আয়াসে।

চলছে চলুক বিশ্বমাঝে, হ্রদয় গলুক সবে,
একুশে পদক করেছে গ্রহন আত্মনিষ্ঠ ভবে -
নিন্দুকেরা ভুলেছে সবি, কান পেতে আজ শুন
চেতনায় মোর, অন্তস্তলে নির্মলেন্দু গুণ।

গ্রামের দেশে


          গ্রামের দেশে

____________________________
           

-নাজমুস সাঈদ


সবুজে সবুজ মিলিয়ে আজ হচ্ছি একাকার,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

গ্রাম্য মেয়ের চলন বলন
দেখছি করে মুগ্ধ নয়ন,
পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গেছে দেখছি নদীর পাড়,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

মাছ শিকারের জাল দেখছি,
নাওয়ের মাঝির হাল দেখছি,
গ্রাম্য পথের বাক দেখছি,দিচ্ছে উজান পার -
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

আলো ছায়ার মিল দেখছি,
উড়ন্ত গাংচিল দেখছি,
সবুজ মাঠের প্রান্ত খুজে, হচ্ছি নিরাকার-
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

হঠাৎ এলো বৃষ্টি নেমে,
রেলের গ্লাস আজ যাচ্ছে ঘেমে,
ধুলাই ভরা এই প্রকৃতি সাজছে নতুন সাজ,
রেলগাড়িরই একটি কোনায়
মাতছি আমি দস্যিপনাই
ভেজা গ্লাসের প্রান্ত দিয়ে দেখছি এসব আর,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রাত পোহালে প্রাতে


   রাত পোহালে প্রাতে
_____________________
     -নাজমুস সাঈদ


বৃদ্ধাশ্রমে ঘুমায় মাতা
গগন ঘুমায় রাতে,
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।
বৃদ্ধ মাতার ব্যস্ত ছেলে
কাজ করে দিন সন্ধা মিলে
সময় যে নেই হাতে!
রাত্রি বেলা ফিরে ঘরে
অর্ধাঙ্গিনী সঙ্গে নিয়ে
রয় যে দুধে ভাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

সুখের পাখি, নিরব আঁখি তুলে
খাচ্ছে মাথা ছেলের যে আজ
মায়ের সোহাগ ভুলে;
ভুলছে ছেলে মায়ের সোহাগ,
ভুলছে বাবার নিরব বিরাগ,
খরচ অনেক ছেলের যে তার
পড়লো বয়স সাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

রাতের খাবার সামনে নিয়ে
বৃদ্ধ মাতা ভাবে,
খেয়েছে কি ছেলে আমার?
দেখেছি সেই কবে!
আমি যেমন ভাবছি কথা
ছেলেও কি মোর ভাবে,
মা টা আমার খেয়েছে কি
অনাহারেই রবে?

কাল ছেলেরই জন্মদিনে,
কোরমা,পোলাও, পনির মিলে
দারুন মজা হবে,
বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট ঘরে
করবো দোয়া কাতর স্বরে
ওদের সুখের অশ্রু যেন
বিধি কেড়োনা এই ভবে,
শুভদিনে একটি পলক
দেখবো ছেলের মায়ার অলক
সময় কি তার হবে?
ওদের সুখের ছন্দ দেখে
রইব আমি দারুন সুখে
মৃত্যু মুখেও রাখবো আশীষ
তুলে এ দুই হাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

এডমিশন বিড়ম্বনা


      এডমিশন

____________________
- নাজমুস সাঈদ (নাবিল)


দুইটা বছর নষ্ট নাকি?
ফাকির পড়া, পড়ায় ফাকি!
মধ্যরাতে ঝিমছি আমি
এসব ভেবেই খুলছি আঁখি,
নিদ্রা আমার অশান্ত আজ
দেয়না ধরা, কোন ইশারা?
ছদ্মবেশে দিচ্ছে পিষে
নিউরনেই ফটিক ছাড়া।

এডমিশনের সিজিন এলো
ঘুম মশায়ের চাকরি গেলো
বইয়ের পাতা উল্টে চলি
কালো কালির গদ্যকলি,
পরমানুর হালকা ভরেই
নিষ্পেষিত হচ্ছি সারা
ভিন্ন বইয়ের তথ্যাবলী
মিলছে না মন পাগলপারা!

কক্ষপথে ঘুরছি আমি
ইলেকট্রনের মাথায় চড়ে,
নিউট্রন ঐ নিউক্লিয়াসে
নিদ্রারত আয়েশ করে!
প্যাশ্চেন,ফুন্ড, লাইমেনেতে
দিচ্ছি পাড়ি মধ্যরাতে
বিকিরিত রশ্মি নিয়ে
ফিরছি বিকেল,সন্ধা, প্রাতে।

ফোটন কণা দিচ্ছে পাড়ি,
হিমোগ্লোবিন রাগছে ভারী,
কক্ষপথে ঘুরছি একা
চশমা ছাড়া যাইনা দেখা,
অরবিটালে ঘুরছি ডানে
বুঝছিনা এই ঘোরার মানে!

পলি, হুন্ড আর আউফবাউ এ
গুলছে মাথা, বুঝছি ছাতা!
কপারজি আর ক্যালসিয়ামে
লাল সবুজে হচ্ছে যা তা!

বোরের মডেল পড়তে গিয়ে
কক্ষপথের আকার একি!
দুইটা বছর নষ্ট নাকি?
ফাকির পড়ায়, পড়ায় ফাকি!

শনিবার, ২১ মে, ২০১৬


সত্যাভিলাষ

__________________

- নাজমুস সাঈদ


সত্যের করো সন্ধান
যা মাথা নোয়াবার নয়,
মিথ্যার মাথা নত থাকে সদা
সত্যের হয় জয়।
আকাশের রং নীল হতে যদি
লাল হয়ে যায় কভু,
মিথ্যা কথা তথাপি কখনও
সত্য কি হয় প্রভু!
সত্য সদা পিছুটানহীন
লেখ্য কিংবা কথ্য,
ভাবলেশহীন মাথা উচু করে
বলে যাবো সদা সত্য।

উৎসর্গ বাংলার শহীদদের নামে।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''

       মাথার খুলি

___________________________________

        - নাজমুস সাঈদ

হে পথিক,হয়ত ভাবছ কার এ মাথার খুলি,
তাহলে আমাকে বলতেই হবে স্বাধীনতার বুলি।
শুনতে কি চাও এ দেশের ঘৃনীত ইতিহাস?
যুদ্ধ মাঝে কেটেছিল যার পুরো নয়টি মাস।
প্রারম্ভেই হয়েছিলো দেশে বৃটিশদের আবাস,
বাংলার মানুষকে দিয়ে তারা করেছিলো নীল চাষ।
বাংলাদেশের সোনার ফসল ব্যতিরেখে পাট,
নীল চাষে বেধেছিলো তারা সোচ্চারী আট-ঘাট।
কৃষক শ্রমিক হয়েছিলো সোচ্চার,
শুরু হলো তাদের উপর প্রবল অত্যাচার।
বাঙ্গালীর বুকে ছুড়েছিলো তারা বুলেটেরি গুলি;
বলতে পারি এগুলো তো তাদের মাথার খুলি।
এরপর এদেশে এলো আয়্যুব খান,
রাষ্ট্রভাষা বাংলা রেখে উর্দু করতে চান।
তাদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীরা করেছিলো প্রতিবাদ;
নিসংস গনহত্যায় তারা করেছে রক্তপাত।
বাঙ্গালীর বুকে ছুড়েছিলো তারা বুলেটেরি গুলি,
বলতে পারি এগুলো তো তাদের মাথার খুলি।

    জাগো কবি কবিতার লাগি

___________________________________________

                - নাজমুস সাঈদ

আজ জাতি-বর্ন-ধর্ম-গোত্র বিরুপ করেছে আমায়,
কাঙ্গাল বলে গালি দিছে মোরে কাঙ্গাল আমি নই।
আঁকতে বসিনি বিবেকে ছবি,
এ আমার ভুল,আমি যে কবি।
বেশি কিছু তো চায়নি আমি-
চেয়েছি প্রভাতের রং লাল না হয়ে হোক সবুজ,
কবিতার পাতা ছন্দহীন না হয়ে হোক ছন্দময়,
সুরহীন প্রান্তর হোক সুরময়।
হে কবি,লেখনি তোমার ফুটিয়ে তোলে কালিমার
জাতিস্বত্বা;
তাই বলে কি লেখনি তোমার হয়ে যাবে কভু মিথ্যা?
লিখে যাও তুমি নির্ভিক চিত্তে আত্মমনোবলে,
লেখনী তোমার থামবেনা কভু রাজনীতি কোলাহলে।
ভয়-ডর নিয়ে লেখালেখি কভু করেনি কোন কবি,
চৌদ্দ শিকেও কবি নজরুল ধরেছে তুলে মানবতার ছবি।
তোমার লেখনি ভুল কভু নয় সত্যের বহিঃপ্রকাশ,
ছুরিকাঘাতে ছোট্ট শিশুকে হতে হয় কেন লাশ?
কি পেল সে জাতির কাছে? এটা কি কালিমা নয়?
দুধের শিশুও মুক্তি পাবেনা,করে যাবে সদা ভয়?
স্বাধীন জাতি,স্বাধীন মোরা,স্বাধীনতা তবে কোথা?
লাশ-খুন-গুম দেখতে দেখতে হয়ে গেছে আজ প্রথা,
ডরিনা আমরা কেও আর দেখে পড়ে থাকা কাটা লাশ,
মানবজাতীর মুক্তি একি? নাকি কোন উপহাস?

        বিলাসী-তা

____________________________

         - নাজমুস সাঈদ

বিলাসীতা মোর স্কন্ধে ঢুকেছে বুঝতে পারিনি কভু,
এমতাবস্থায় উন্নতি মোর হবে কি কখনো প্রভু?
দারিদ্রতায় নিপিড়ীত হয়ে গেয়ে গেছে যারা সত্য,
আমি কি পারবো তাদের মতো রেখে যেতে মোর কথ্য?
বিলাসীতা-বিলাসীতা-বিলাসীতা করে চলিছে মোর
জীবন;
ক্ষুধায় কাতর পথ শিশুদের দেখিতে পায় যখন-
মনে হয় করি এমন কিছু করেনি যা কেউ আগে,
সমাজ আমার পেছন থেকে টেনে ধরে আগে ভাগে।
কি করিব এই সম্পদ পাহাড়? যদিনা জোটে গরিবের
আহার!
স্কন্ধে চেপে বিলাসীতা মোর বয়ে চলে সাথে,
এ যাতনা মুক্তি পাবার পথ কি কিছু আছে?

   তুমি মানবিক

_______________________

    - নাজমুস সাঈদ


কবিতা আমার মানবতার কথা বলে
সচেতন মন দেখোনা দুআঁখি তুলে
তোমার সামনে হয় মানবিক
শত শত দুশমন
সচেতন হও দেখিতে পাইবে
খুলে দাও নিজ মন।
চুরির দায়ে চোরেরে যদি
মার দাও তুমি প্রাতে
তফাত কিসে থাকবে বলো
চোরে আর তোমাতে?
ধিক শতাধিক তোমার প্রতি
হও যদি তুমি অন্ধ
পথশিশুর দূঃখ দেখেও
চোখ রাখো যদি বন্ধ
তুমি মানবিক, মানবের দিক
থাকে যদি তোমাতে
মানবদূঃখ ঘোচাতে তুমি
ব্রতী হও দিন-রাতে।

চেতনায় কবি-হ্রদয়ে কবি

__________________________________

               - নাজমুস সাঈদ


গান-গীতি-লেখ সাহিত্য নিয়ে সুনিবিড় পথচলা
আত্মাহংকার রেশটুকু ছেড়ে হয়েছি যে পথ ভোলা,
চেতনার দ্বার খুলেছি মননে
হ্রদয় ভেবেছে কবিজি স্মরণে
আত্মভোলারে পথ দেখিয়েছে নিত্য দিনরাত্রে,
রবীন্দ্রনাথ,কবি নজরুল শোভা বেধেছি নিজ গাত্রে।
.
সুরের পৃথিবী মাতামাতি আজ নজরুল-রবী গীত্যে
মনের দোয়ার,তুলেছে জোয়ার খুলে দিছে নিতি-
নিত্যে,
চোখের বালি,গোরা,যোগাযোগ কিংবা চতুরঙ্গ,
রবীর সৃষ্টিকর্ম গড়েছে বাংলা মায়ের অঙ্গ!
প্রকৃতির পটে স্থাপিত জীবন হয়েছে বিশ্বজনীন
শত স্তুতিও শেষ হবেনা রবীঠাকুরের ঋণ।
.
সাম্যবাদের শিক্ষা পেয়েছি নজরুল গীতি-কাব্যে,
নিয়েছি দিক্ষা,পেয়েছি শিক্ষা,তৃষ্ণার্ত মন ভাববে,
এ কেমন গীতি,এ কেমন ভাব,এ কেমন সুর-ছন্দ?
শিক্ষার দ্বার খুলে গেছে মোর,অন্য সকল বন্ধ!
স্কন্ধে চেপে নজরুল গীতি শিখেছি বিদ্রোহ,
শিউলিমালা,বাধনহারা,কুহেলিকা আছে বহ।
.
বদ্ধ খাচায় বাধা থেকে রবী লিখেছে গীতাঞ্জলী,
বিশ্বদ্বারে সমাদৃত, হয়েছে গান কলি!
সে রবীরে আজ হ্রদয়ে বেধেছি,চেতনায় নজরুল-
পদচিন্হেই ফুটে আছে ওরে রক্তিম তাজা ফুল।

বুধবার, ৪ মে, ২০১৬


           মা

_______________________

      নাজমুস সাঈদ

প্রষ্ফুটিত ভ্রুণের থেকে
সবার বৃহৎ দেহ,
সেই ভ্রুণেরই আধার যেথা
বুঝলো নাতো কেহ।
.
মাতৃকোলে ছোট্ট শিশু
লালিত হয় সুখে
সেই মায়েরই বৃদ্ধাশ্রমে
অন্ন জোটে মুখে।
.
অমরা থেকে পুষ্টি শুষে
শোষক হলি বড়,
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বয়ছে হাওয়া ঝড়ো।
.
সপ্তদিকে চোখ মেলে দেখ,
আদর সোহাগ নিজপ্রাণে মাখ,
ওই মায়েরই চাইতে ওরে
নয়তো কেহ বড়ো-
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
রুগ্ন দেহে,জীর্ণ শিরে,
যেদিন ছিলি মায়ের নিড়ে
সেদিন তো কোই এমন ভাবে
চাসনি হতে কারো?
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
মায়ের দুধের প্রতি ফোঁটা
গড়েছে তোর দেহ গোটা
সেই দেহতে সান দিয়ে আজ
পুথি কিতাব পড়ো,
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
মায়ের চোখে তাকিয়ে দেখ
মায়ার সাগর ছাপিয়ে দেখ,
ঔ মায়েরই অশ্রুকণা
গড়ছে নদী-চরও
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
তোমার সুখে সুখি মাতা,
নিয়ে জীর্ণ শীর্ণ ছাতা
কেমন জীবন পার করেছে
বুঝতে কি কেউ পারো?
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬


তুলনা আজ নিষ্প্রয়োজন 

____________________________

                       

- নাজমুস সাঈদ

প্রিয়তম বললো ডেকে আজব করা কথা,
গুরুত্বতে সেরা কেবা? আকাশ নাকি ভূমিমাতা?
বললাম হেসে তুমিই ভাবো -গুরুত্ব কার বেশি,
ভুমিকে সে মার্ক দিয়েছে শতাংশতে আশি।
ভাবলাম তবু আপন মনে ভুমিই কিসে সেরা?
গুরুত্ব তো প্রকাশ করে আকাশ ভরা তারা;
চন্দ্রহীন আকাশে সে ক্ষুদ্র আলো বিলায়
জোনাকির আলোর সাথে নতুন শোভা মিলায়,
তারাগুলো ক্ষুদ্র হলেও নয়ত বটেই হিন্য
গুরুত্ব প্রকাশে তাই বসে তারা চিহ্ন।
হঠাৎ নতুন ভাবনা আবার উদয় হলো মনে,
শস্য দিয়ে উপকারই করছে ক্ষনে ক্ষনে;
সেই ভুমিকে এমন করে কেমনে নামায় নিচে,
কৃতঘ্ন যে হবো শেষে মানবতার পিছে!
তুলনা আজ নিষ্প্রয়োজন দুটোই সমান দ্বার
আকাশ সকল শক্তির দূত, ভূমি দেয় আধার।
এই দুটোরই সমাবেশে স্নিগ্ধ এ পৃথিবী,
ভূমি বিলায় শস্য আর গগন যে দেয় রবি।
তুলনাতে ব্যর্থ আমি আকাশ আর মাটিতে
অনবদ্য বন্ধন যে গাথা এ দুটি ইটে।

সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০১৬


ছোট্ট সোনামনিদের জন্য একটা ছড়া।

মশা

_________

      - নাজমুস সাঈদ

মশারা পাজি ভারি
কামড়ায় রাত্রে,
জন্মায় পানিতে
জমা থাকে পাত্রে;
হুল ফুটে শুষে তারা
মানুষের রক্ত,
কাজ নাই সারাদিন
করে বিরক্ত।
ওরে মশা তোরাতো
ডেঙ্গুর পোষক,
মানুষের রক্তের
তোরা হলি শোষক;
ম্যলেরিয়া জীবানু
ছড়াস রাত দুপুরে,
পাওয়া যায় তোমাদের
ঔ রাজপুকুরে।

রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৬


বসন্ত বন্দনা

__________________________

                   -নাজমুস সাঈদ

আকাশ পানে তাকিয়ে দেখি গুচ্ছ মেঘের খেলা,
পাতার ফাঁকে মৃদু বাতাস বয়ছে সারা বেলা;
সুরগুলো আজ নতুনরুপে দিচ্ছে আমায় ধরা,
ফুলের শোভায় মাতোয়ারা আজ প্রকৃতি পাগলপারা।
বসন্তরুপ মধুর করে কোকিল পাখির ডাক,
ফেরিওয়ালা ঘন্টা হাতে হাক ছেড়েছে হাক;
গোলাপ-জবা-জুঁইয়ের ডালে মৌমাছিরা ঘোরে,
কোকিল-চড়ুই-দোয়েল-শ্যামা ডাকছে নতুন সুরে;
এত মধুর সমন্বয়ে হচ্ছি মাতোয়ারা,
বসন্তরুপ নতুন সাজে আমি পাগলপারা।

ছোটগল্প)
চাঁদনি রাতে - কপতিকা
___________________________________
লেখাঃ নাজমুস সাঈদ
রাত ১২.৩০!
নিলীমা বেলকনিতে ইজি চেয়ারে বসে আছে।
পাশে নিলয়।
নিলয় বসে আছে ডান পাশের চেয়ারে। দুজনের হাতে
দুটো কফি মাগ।
নিলীমা নিলয়ের দেওয়া নিল শাড়িটা পরেছে আজ।
নিল শাড়িতে তাকে অপরুপ লাগছে। কিছু কিছু মানুষের
জন্য কোনো বিশেষ রং তৈরি। নিল রঙটা হয়ত নিলীমার
জন্যই তৈরি।
চাঁদের আলোতে অপরুপ লাগছে কেন আজ নিলীমাকে? -
নিলয় মনে মনে ভাবতে থাকে।
নিলয় পরেছে হলুদ পাঞ্জাবি।
- তুমি এটা কি পরেছ?
- এটা একটা পোশাক নিলা। বাংলায় এটাকে
পাঞ্জাবি বলে।
- তা আমি জানি। কিন্তু তাই বলে হলুদ। তুমি জানোনা
হলুদ আমার অপছন্দের রং।
- জেনে নিলাম।
- এক কাজ করো,তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবিটা খুলে
ফেলো। আমি এখন এটাকে পুড়াব। চাঁদও হাসবে আমার
কান্ড দেখে।
- সত্যিই পুড়াবে?
- না। আজ থাক। আজকের রাতটা নষ্ট করতে চাইনা
নিলয়।
- আচ্ছা আজ যেন কি?
- আজ পূর্নিমা। পূর্ন পূর্নিমা।
- ও
- তোমার মনে আছে আজকের এই রাতটির স্বপ্ন আমরা
প্রথম কবে দেখেছি?
- ঠিক মনে নেয়।
- জানতাম মনে রাখবে না।
- বাহ তুমি তো বেশ বোঝো।
- হু। তা বটে।
- আচ্ছা নিলা বলোতো,পৃথিবী গোল কেনো?
- পৃথিবিটা গোল কারন তুমি আমার অপূর্নতা পূর্ন করতে
অবশ্যয় আমাকে খুজতে কিন্তু পৃথিবী গোল না হলে
আমাকে পেতে কোথায়?
- বাহ। তুমি বেশ বুদ্ধিমান। আমি অভিভূত।
- থাক আর পাম মারা লাগবে না।
নিলয় হাসতে থাকে। নিলা আজকাল অনেক গুছিয়ে কথা
বলছে। ব্যাপারটা নিলয়ের বেশ ভালো লাগছে।
- নিলা,একটু হাসতে ইচ্ছে হচ্ছে। তুমি কি আমাকে
হাসাতে পারবে?
নিলা কথার উত্তর দিলোনা।
- নিলয়, গতকাল আমার রুমে এসে বললো " মা,
তোর বাবা অনেক খুশি হয়েছে। তুই উনার দেখানো
পাত্রকে বিয়ে করতে চেয়েছিস তাই।"
আমি বললাম," বাবা কি ভাবছেন?"
- বলছিলো তোর বিয়ের দিন নাকি ঘোড়ার পিঠে করে
তোকে শশুর বড়ি পাঠাবে।
- মা; এটা সত্যিই অদ্ভুত। তবে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে
গেলে সমস্যা বেধে যাবে। বাবাকে বরং অন্য কিছু
ভাবতে বলো।
- তুই শুধু সবকিছুতে খুনসুটি করিস।
- আচ্ছা মা,একটা কথা বলি?
- বল।
- আমি যদি বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে না করি
তাহলে কি বাবা আমাকে ঐ ঘোড়া দিয়ে লাথি
দেওয়াবে?
নিলয় এবার সত্যিই হাসি আটকাতে পারলো না। হাসতে
হাসতে মনে হলো গড়িয়ে পড়বে।
নিলা অদ্ভুত দৃষ্টতে তাকে দেখছে। নিলয় এত সুন্দর
হাসতে পারে? এটা নিলা আগে কখনো লক্ষ করেনি।
নাকি পরিবেশ তার হাসির সৌন্দর্যটাকে আরও
বাড়িয়ে দিচ্ছে? হয়ত তাই। একই হাসি দেখতে একেক
পরিবেশে একেক রকম লাগে।
- নিলা।
- বলো।
- আজ আমার হাত ধরে হাটবে?
নিলা উঠে দড়ালো। নিলয়ের হাত ধরে তাকে ছাদে
নিয়ে গেলো। ছাদে চাদের আলো আরও উজ্জল। এই
চন্দ্রালোকে দুজন কপত কপোতি হাত ধরাধরি করে
হাটছে। এর থেকেসুখানুভূতি আর কি হতে পারে?
- নিলা,কাল আমাদের বিয়ে।
- হুম জানি! আমরাই একমাত্র কপোত কপোতি যারা
বিয়ের আগের রাতে জোছনা দেখছি।
- হুম। চলো আজ রাতটা জোছনা দেখেই কাটিয়ে দিই।
নির্ঘুম।
- ঠিক আছে।
এখন নিলা আর নিলয় ছাদে বসে আছে। নিলয় চাদের
দিকে তাকিয়ে আছে আর নিলা তাকিয়ে আছে নিলয়ের
মুখের দিকে। কি পাগল এই ছেলেটা। কতো অদ্ভুত
ভঙ্গিতে জোছনা দেখছে। কতটা নিষ্পাপ লাগছে
তাকে। নিলা ক্ষনিকের জন্য ভুলে গেলো যে সে আজ
বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে,এই পাগলের হাত ধরে।

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৬


নাম ছিলো তার ববিতা

__________________________

                            - নাজমুস সাঈদ

ববিতা নামের সেই মেয়েটি সত্যের পথে চলতো,
যুদ্ধের সাজে রণাঙ্গনের কষ্টের কথা বলতো;
পাক-বাহিনীর নিলজ্জতার প্রতিচ্ছবি লিখতো,
তার চেতনায় হাজার মানুষ যুদ্ধযাত্রা শিখতো।
২৫-এ মার্চ কলম হাতেই লিখছিলো সে কবিতা;
সত্যের কথা বলতো যে সে,নাম ছিলো তার ববিতা।
অত্যাচারীর কালো থাবা পড়লো যেদিন আকাশে
লিখছিলো সে কলম হাতেই সুর ছিলোনা বাতাসে;
অস্ত্র হাতে পাক বাহিনী মারলো বুদ্ধিজীবী,
ছাড় পেলোনা সেই মেয়েটিও,সে যে বাংলার কবি।
একে গেছে তবুও সে রণাঙ্গনের ছবিটা
সত্যের পথে চলতো যে সে,নাম ছিলো তার ববিতা।

শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০১৬


স্বাধীনতার মুক্তিকামী

___________________________

                         - নাজমুস সাঈদ

আমি স্বাধীনতার মুক্তিকামী,
অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি
মৃত শহীদের বদ্ধভূমি
আমি স্বাধীনতার মুক্তিকামী।
পরাধীনতার শিকল টুঁটে
অস্ত্র হাতে চলছি ছুটে;
আমি যে আজ মৃত্যমুখি
লাখো মানুষেরে দেখতে সুখি,
ছেড়েছি মোর ছোট্ট কুটির
যোগান দিতে বস্ত্র রুটির।
সইব না আর শোষক শ্রেনীর
অত্যাচারের অগ্নিশিখা,
গুলির চোটে নিজের পটে
মুছবো যে আজ সীমারেখা;
স্বাধীনতা সবে মুক্তির স্বাদ
আমি জগৎস্বামী
স্বাধীনতার মুক্তিকামী।

ফটোসপে আঁকা ছবি

___________________________

                       - নাজমুস সাঈদ


যেখানে সমাজ বিকৃত আজ
ফটোশপে আকাঁ ছবি
দেখতে দেখতে বড় আজ আমি
আমি যে নতুন কবি।
সে ছবি ভুল যেখানে মিথ্যা
আকাঁ থাকে সদা সত্যে,
তফাত সেখানে বোঝা মুশকিল
সত্যে আর মিথ্যে।
হে রনবীর,
জেগে উঠো আজ নব মানবতায়;
যেখানে সবাই দেখে চলেছে মিথ্যার রেশটাই-
ভাবছে এটাই সত্য ছবিতো
ভুল কিছু নেয় এতে;
পশ্চাতে তার ভুলের পাহাড়
রয়ে গেছে নিতি-নিত্যে।
ভুল ত্রুটি আজ ধরিয়ে দিচ্ছি
গগনে উঠেছে রবি,
এ ছবি আজ প্রকৃত যে নয়
ফটোসপে আকাঁ ছবি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৬


চেতনা আমার ১৯৭১

__________________________

     - নাজমুস সাঈদ


মা,হাতে খুন লেগেছে মোর,
ভেবে চলেছি রাত ভোর
চেতনা আমার- ১৯৭১!
আজ হাতে খুন লেগেছে মোর।
রক্তে আমার জ্বলছে অগ্নশিখা
ফুটছে বোমা মুচছে সীমারেখা;
আমি সৈনিক বীর বাঙ্গালী-
ভয়-ডর সব পিছনে ফেলি
এগিয়ে চলেছি সম্মুখভাগে
মায়ের প্রতি শেষ অনুরাগে,
জীবন বাজি রাখবো আমি
আমি বাংলার-বাংলার আমি।
ওমা তোমার সোনার ছেলে,
তোমার কোলকে একা ফেলে
ছুটছে অপর মায়ের টানে
দেশ-মাতৃর মুক্তি পানে।
ওমা দিওনা ডাক পেছন থেকে,
তোমার ছেলে মুক্তির দূত
হাজার ছেলের সুখের লাগি
লাল সবুজের স্বপ্ন আঁকে।



তুমি মানবিক

_______________________

                  - নাজমুস সাঈদ

কবিতা আমার মানবতার কথা বলে
সচেতন মন দেখোনা দুআঁখি তুলে
তোমার সামনে হয় মানবিক
শত শত দুশমন
সচেতন হও দেখিতে পাইবে
খুলে দাও নিজ মন।
চুরির দায়ে চোরেরে যদি
মার দাও তুমি প্রাতে
তফাত কিসে থাকবে বলো
চোরে আর তোমাতে?
ধিক শতাধিক তোমার প্রতি
হও যদি তুমি অন্ধ
পথশিশুর দূঃখ দেখেও
চোখ রাখো যদি বন্ধ
তুমি মানবিক, মানবের দিক
থাকে যদি তোমাতে
মানবদূঃখ ঘোচাতে তুমি
ব্রতী হও দিন-রাতে।

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

হিমালয় 

_____________________

             - নাজমুস সাঈদ নাবিল

হিমালয় তুমি উচ্চ অতি
সম্মান কি তব উচ্চ আছে অত?
যেথা মাটিতে পড়া ফল ছয়না কেহ-
সেথা গাছের ফল বাদুড়ে খেলে
জাত কি তোমার যেত?
অতিথী পাখি দল বেধে আসে 
তোমার উপর দিয়ে,
তুমি কি পারো না নত হতে সেথা 
পাখিদের উপকারে?
বড় হয়ে সেথা কি হবে যেথা,
উপকারে নেয় মন?
পরের দূঃখে ভাগ নিলে পরে;
হবে সে আপনজন।
হিমালয় তুমি ভাবো কি তবে
উচ্চ করে শির?
সকল পাহাড় জয় করে তুমি 
হয়ে গেছো মহা বীর?
ধিক্কার সেই বীরেরে তবে
মানবতা নেয় যার,
মানবতা লাগি টিকে আছে আজো
জগৎ সংসার।
বীর হয়ে সেথা কি হবে যেথা
উপকারে নেয় মন?
পরের দূঃখে ভাগ নিলে পরে;
হবে সে আপনজন।