শনিবার, ৯ মার্চ, ২০১৯

                                                 রম্য কবিতা

                                              নাজমুস সাঈদ 


                                       বোল্লা মশায় কামড়ে গেছে
                                            ঠোঁট গিয়েছে ফুলে,
                                       কাজের মাসি বেজায় হাসি
                                           দিচ্ছিল চোখ তুলে।
                                        অমনি রেগে বছর দুয়েক
                                             দিলেম তারে ছুটি,
                                       শাস্তি বলে দিলেম রেখে
                                            বালিশ কাথা দু'টি।
                                      বৌ ঠোঁটেতে হাত বুলিয়ে
                                          বললো কানে কানে,
                                      "আমার ঠোঁটে এন্টিবডি
                                        বোল্লা কি আর জানে!"
                                       বলাও সারা ঠোট গলিয়ে
                                        দিলো আমার ঠোটে,
                                       খুশিতে মন আত্মহারা
                                         ভালোবাসার চোটে।
                                        ধন্যবাদে দিলেম ভরে
                                          বোল্লা মশায় টাকে,
                                    কামড়ে যেও সুযোগ পেলেই
                                         ঠোঁট, গালে আর নাকে!

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬


 রক্তিম রঙপেন্সিল

__________________________

    -নাজমুস সাঈদ


আমি একটা আকাশ আঁকবো
যেথা মেঘ করবে খেলা অবেলায়,
পাখি উড়বে ডানা মেলে প্রভাতে'
চাঁদ হাসবে মৃদু আলো সাথে;
আমি ছাদে বসে জোছনা মাখবো-
আর আকাশ আঁকবো!

আমি একটা আকাশ আকঁবো
যার বুকে ধারিত হবে অজশ্র তারা,
প্রশ্নবিদ্ধ নিষিদ্ধ রাতগুলো
বিয়ারের বদৌলেতে আমি তুলি রাখবো;
আর আকাশ আঁকবো!

রক্তিম সূর্য কিংবা গধূলীর রক্তিমায়,
কীটের মতো টেনে হিচড়ে হটাবো ধূলি,
গ্রাফিক্সের দৌলতে জড়ের মুখে ফোটাবো বুলি!
দূষিত পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য কীটজ,কীট্রজ
ক্যাটানল বহির্ভূত যত রক্তিম রহস্য,
আঁকাবো, ফোটাবো,মেলাবো,জ্বালাবো দূর্দশাই কালি
কালো আকাশের মেঘ হটিয়ে নীলই রাখবো,
আর আকাশ আঁকবো!

তনু,খাদিজার রক্ত'গধুলীর রং
জেলিনের মায়ের অশ্রু'তার্পিন,
রক্ত,অশ্রু মিলে মিশে একাকার-
রং কি হবে? এই তো রং,
নিরব আর্টে হাহাকারেই ছত্র দাগবো,
আর আকাশ আঁকবো।


       তেলাপোকার ঝোল

________________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ


প্রভাত হতেই ঘুমের ব্যাঘাত, কলিংবেলের শব্দ,
একের পর এক আসছে মানুষ, করছে আমায় জব্দ;
আমি আবার ঘুম কাতুরে, হচ্ছি পুরোই দগ্ধ
চলছে তবু অবিরত, কলিংবেলের শব্দ।
আজ বুঝি আর ঘুম হবেনা, বুঝছি অতি সদ্য,
বাড়িরই আজ অনুষ্ঠানে, চলছে পনির মদ্য,
এমনভাবে ঘুম ভাঙালো, মানছিনা আর অতি;
এই ঘটনার প্রতিশোধের নিলাম প্রতিশ্রুতি।

পিঠা, পুলি, পনির পানে সবার মুখেই হাসি,
ফুলছি আমি, ঘুম ভাঙ্গালি? আসুক সন্ধা-নিশী,
খুজছি সুযোগ, রান্নাঘরে, দিচ্ছি উকি সাঝে,
কাজের মামা ব্যস্ত অতি বিরাম যে নেই কাজে;
বলি, ও মামা, শ্রান্ত তুমি, বসো তো ঔ খানে,
দেখছি আমি রান্না তোমার, সমস্যাতে আওয়াজ দিও খনে

এতক্ষনে ফুটলো ঠোটে একটু হাসির রেখা,
তরকারিতে ঝালের সাথে, দিলাম তেলাপোকা!
খাবার ঘরে খাচ্ছে সবাই কোরমা, পোলাও, রোল;
হাসছি আমি, ভেবেই সারা, তেলাপোকার ঝোল!

          বদলাতে চাই

______________________________________

             -নাজমুস সাঈদ



বৃক্ষের দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
নদীর পানে চেয়ে, আমি হয়ে হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
ঝরনার দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি ঝরনার বৃষ্টি বদলাতে চাই!
প্রকৃতির দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি পৃথিবীর সৃষ্টি বদলাতে চাই!

গাছ-নদী-ফুল, ঝরনা অকূল, দেখেছি কুড়ে ঘর,
দেখেছি নদীর পাশ কেটে ওঠা নির্মল বালুচর।
দেখেছি সবি দেখিনাই শুধু পড়ে থাকা পথশিশু
প্রকৃতির পানে চেয়েছি শুধুই, দেখা হয়নাই কিছু।

একদিন বসে বৃক্ষছায়ায়, হাতে নিয়ে দুটি রুটি,
দেখছিনু বসে পথশিশুদের, ফুল নিয়ে ছোটাছুটি,
এক ছেলে এসে, দৌড়ে কাছে, জড়ায়ে ধরলো হাত,
ভাইয়া আমি ক্ষুধার্ত ভারি, খাইনিকো দুই রাত;
এই নিন ফুল, আমার গাছের, তুলেছিলো বোন কুটি-
বদৌলেতে দিন খাবার আমায় ঔ হাতে থাকা রুটি।

পড়লো ঝরে অশ্রু ফোটা চোখ হতে মোর হাতে,
আমি খেয়েছিনু গোস্ত পোলাও গত দুইতিন রাতে!
এ খাবার কার, কে করে আহার? গরিবের চোখে জল!
দেখেছিনু চেয়ে ছোট্ট শিশুর চোখ করে টলমল।
দিয়ে রুটিদ্বয় বললাম, 'বাবু, লাগবেনা এই ফুল,
দিয়েছ ফিরিয়ে বিবেক আমার,সবি ছিলো মোর ভুল।'
থেকো ভালো সদা করে হাসিমুখ, আহার যদি না জোটে,
চলে এসো এই গরীবখানায় খেয়ে নিবো এক পটে;
আমার আহারে  উদরপূর্তি করে যদি এই শিশু
প্রশান্তিময় এর থেকে আর,ভবে নেই কোন কিছু।

                 মানুষ

_________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ




ছোট্ট ঘরের কোনগুলো আজ নিরব নিথর ভবে
বাবা-মায়ের শত শত স্মৃতি অবেলায় পড়ে রবে,
আমি আর আমার ছোট সংসারে একটু শোকের দিশা
কেটে যাবে তাও সময়ের সাথে ভুলে যাবে অমানিশা,
পুড়ব আমি একলা শুধুই আমার মায়ের স্মৃতি
কোলে করে মাতা করেছে বড়,  হইনিকো যথারিতী।
💜
মানুষ হয়ে নিয়েছি জন্ম, মানবতা নিয়ে হয়নি,
আমার বাবার সত্য-নিতী আমি বারেবারে পায়নি;
মানুষের মত দেখতে সবাই হয় কি মানুষ সবে,
একি গঠনের গ্রন্থদ্বয়ে কি, একি লেখা পড়ে রবে?
জমজ বলে কি এক ভাই হবে অন্যের প্রতিচ্ছবি,
একি গঠনের আলো দেয় কিগো চাঁদ মামা আর রবি?
💜
আমি কুৎসিত, কদাকার আমি, এ কি মোর পরিচয়,
সুন্দর সেত মাকাল ফলও, বৃথা কেন পড়ে রয়?
গায়ের রঙটা কালো কি সাদা, কি যায় তাতে আসে?
চেয়ে দেখো ঐ কালো মুখপানে, মায়া ভরা অভিলাষে!
সাদা রং সে তো হয় কালো-লাল ক্রোধ,ভয়,লজ্জায়
কালো রং সে তো একি থাকে সদা, শত ভুল অভিপ্রায়।
💜
তুমি শ্বেতাঙ্গ আমি কৃষ্ণ দুয়ের মুখেই হাসি,
একি স্রষ্টার হাতে গড়া সবি হাসি মুখে একরাশি,
তুমি বড় বড় প্রসাদের রাজা, আমি কুড়ে ঘরে থাকি,
তোমার অন্ন, রয় অনন্য, গরীবের পেটে লাথি!
আমি কুড়েঘরে হাসি মৃদুভাবে, দেখে ঐ চুনকালি,
সামনে যতই সম্মান পাও, পশ্চাতে পাও গালি!
তুমি মহারাজা, সর্বেসর্বা ! তুমিই বড় ভিক্ষারী,
গরীবের বুকে পা দিয়ে তোমার আজ এত বাহাদুরি।
💜
আমি ছোটজন, ভিখারি তো নই, আছে মোর দৃঢ় মন,
সব মানুষেরে সমাদর করি, সবে মোর প্রিয়জন;
মানুষ আমি, আমি মানবিক, গতর খাটিয়ে খাই
হোক না কৃষ্ণ, কুৎসিত মুখ, মানবতা অভিপ্রায়। 💜


                   বন্ধু

_______________________________________

                -নাজমুস সাঈদ



প্রতিদান চাই না আমি, চাই ফিরে আমার শৈশব
বন্ধুসকল কত জাগরণ, শত সুখময় স্মৃতি ঐসব।

বাধা ছিল সব একি ডোরে, আজ হয়ে গেছি একঘরে;
ছিলো ছন্দ, মনের দ্বন্দ্ব, ছিলো আশা-দূরাশার গন্ধ,
ছিলো মারামারি ভরা দিনতো, আমি ভুলিতে পারিনি কিন্ত।

কত টিফিনে বসানো ভাগ, আর মালিকের শত রাগ,
আজ ফিকে হয়ে গেছে স্মৃতি, আমি ভাবছি যথারীতি।

ছিলো শান্ত, দুরন্ত,  দস্যিপনায় দক্ষ,
হাসিখুশি রাখতো মোদের, অনাবিল শ্রেণীকক্ষ।
ছিলো সৌরভ, নাজমুল-হাদি, ছিলো কাটাহেরীকান্ত,

মতি সেপু ইতি সুনিবিড় স্মৃতি, আজও রয়ে গেছে শান্ত!
নান্টু আসিক বেজায় রসিক,ছিলো সাথি মোর খেলার
মনে পড়ে আজও শত রসিকতা,মোর ঐ ছোটবেলার।

নিশী-মনি-মিম, বিথী-সাথি, আরও ছিলো মনি কিন্তু
হাবাগোবা ছিলো ছোট রিমী বুড়ি, ছিলো হাসি খুশি রিন্তু।

এলেম খোকন তোহা আনন্দ, আরও ছিলো রাজু ভাই
স্মৃতি সব আজ, করছে বিরাজ, ভুলতে তো পারি নাই।

সাওদা মনির নেকু নেকু কথা, কেরানি কাকুর হিসাবের খাতা
ফিকে আজ সব, রঙহীন সব, পড়ে আছি বহু দূরে
মনে পড়ে তবু স্মৃতি আম্লান, মনের আস্তাকুড়ে।
কফি কাপ আজও হাতে আছে শুধু নেইক তো সেইদিন
পাতা উল্টালে স্মৃতির খাতা, পড়ে রবে অমলিন!


শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিদায়ী কাব্য


              বিদায়ী কাব্য

_____________________________________
               - নাজমুস সাঈদ


আজকে বিদায় বেলায়-
এক হয়েছি আমরা সবাই প্রান্ত মিলনমেলায়,
আগামির ফুল ফোটাবি তোরাই
কুসুমে ফোটাবি প্রাণ
দেশও জাতির কান্তারি তোরা
প্রাণের রাখবি মান।

ভবিষ্যতের তোরাই কবি,তোরাই সাহিত্যিক
তোরাই জাতির বিবেকবোধ আর তোরাই দিক্বিদিক।

এখান থেকে বিদায় নিয়ে হাটবি নতুন পথে
ছিটিয়ে যাবি দিক্বিদিকে কেউ রবিনা সাথে।
স্মৃতির পাতা উল্টালে তবু পাবি আমাদের নাম,
নিন্মে পড়ে থাকলে কেহ দিবিনা তার দাম?

বড় হো তবু আকাশ সমান এই আশাতেই থাকি,
তোদের সবার জন্য আমি সুভকামনা রাখি;
জাতীর মুক্তি,জাতির প্রাপ্তি তোদের প্রত্যাশাতে
সম্মান তব জাতিসত্তার বইবে তোদের সাথে।

তোরা মুক্তির কান্ডারী দূত তোরাই তরুন সমাজ,
অতিতের কথা মনে করে বাচ
মনে মনে পাবি পরিমিত লাজ
তোদের বয়সে দিয়ে গেছে তারা তরুন তাজা প্রাণ,
তোরাও দিবি রাখতে সদা জাতিসত্মার মান।

জাতির বিবেক ম্লান করে আজ খুন হয় ছোট শিশু,
হে ভবিষ্যতের কর্নধারী করার কি নেয় কিছু?
অন্যায় আর অত্যাচারের করে যাবি প্রতিবাদ
জীবন দিয়েই নিয়ে যাবি তোরা মুক্তির মহাস্বাদ।

পারববিনা আজ কথা দিতে তোরা চলবিনা ভুল পথে?
বন্ধুগণ চল হাত তুলি আজ এই মহাশপথে-
চলব সদা নির্ভীক আর সত্যনিষ্ঠ মনে
বিবেকবোধ এর মৃত্যু হতে দেবনা কনোক্ষনে,
রাখব জাতির সম্মান আর জাতিসত্তার মান
দরকার হলে দিয়ে যাবো সবে আমাদের তাজা প্রাণ,
ঘুষের টাকায় গড়বোনা কেহ সম্পদেরই পাহাড়,
ন্যায়বোধটুকু দেবনা ক্ষয়িতে যদিওনা জোটে আহার।

অনেক দিনের পথচলাতে রইলি মোদের সাথে,
নতুন আশার দিশাই তোরা ছুটবি নতুন পথে,
পিছন ফিরে দেখবিনা কভু কি আছে স্মৃতির পাতাই
দেখবিনা কভু কি লেখা আছে মুক্ত মনের খাতাই।

সবার কথা ভেবে আজ তোরা খুলে দে নিজ মন
কত আশাই বুক বেধেছে তোদের আপনজন।
দেখেছিস কি তাকিয়ে কভু মায়ের চোখের দিকে?
কত আশা, স্বপ্ন কত বয়ছে একেবেকে।
তোরাই দিবি মায়ের চোখের প্রতি ফোটার দাম,
দেশজনতা বন্ধুসকল করবে তোদের নাম।

শেষের বেলা দূঃখ নিয়ে বলছি আপন মনে,
তোদের কথা পড়বে মনে পুড়বো ক্ষনে ক্ষনে,
স্বরবো তবু তোদের কথা পড়ে মোর এই পদ্য-
স্মৃতির পাতাই রয়ে যাবে নাম,হবে তা অবিচ্ছেদ্য।


(উৎসর্গঃ কোর কেয়ার কোচিং এর বিদায়কালে বন্ধুদের )


আয়য়রে সখি আয়

 আয়রে সখি আয়

______________________
     - নাজমুস সাঈদ


আয়রে সখি আয়
প্রাণের সাথে প্রাণ মেলাবি
দুখ ভোলাবি তাই,
আয়রে সখি আয়।

অাখি যুগল অশ্রুসজল
তোর দুচোখে মায়ার কাজল,
ঐ দুহাতে মুছবি আঁখি
ভুলবো ব্যাথা তাই,
আয়রে সখি আয়।

দেখবো তোকে দুচোখ ভরে
অবাক চোখে অন্ধকারে
থাকবিনা তুই প্রাণের মাঝে
আমার অভিপ্রায়,
আয়রে সখি আয়।
.
চোখের জলে নাও ভাসাবি
আমিরে সেই নাউয়ের মাঝি
অশ্রু মুছে আনবো হাসি
এর কোন ভুল নাই,
আয়রে সখি আয়।

বালিকা


                 বালিকা

_______________________________________
           

               -নাজমুস সাঈদ


বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার
ক্ষুদ্র কুটিরে যখন সাপ খেলা করে নিংড়িয়ে আধার-
বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার।
.
আমার কলাপাতার আচ্ছাদনে ঢাকা শৈশব ছিলো,
বই খাতাতে মনোযোগী এক কৈশোর ছিলো,
এখন যুবক আমি -
তোমার ঘ্রাণে আপ্লুত হয়েছি ক্ষণকাল আগে
যৌবন মোর উপচে পড়া ভিড়ে নিংড়ে নিংড়ে হাটে,
ফুল দেখেছি, দেখেছি হালকা বাতাসে পাতার নড়ন-
আস্তে আস্তে হয়েছি বড়,পাতা ঝরেছে বৃক্ষের,
এই ঝরা পাতাই ঘর বেধেছি!
ভেঙ্গেছি!
আবার গড়েছি!
মনে আছে ফুলবন আচ্ছাদিত সেই দেওয়ালের কথা?
যেথা প্রতিটি ইটের সাক্ষী,
ভালোবাসা!
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে চিৎকার দিয়েছো
অপলক চোখে তাকিয়ে থেকেছি ঐ আখিঁর পানে!
.
বার বার জিজ্ঞায়িছো মোরে- "কেন ভালোবাস?"
বলেছি, "ভালোবাসি, তাই ভালোবাসি!"
চাঁদের আলোয় যখন জোনাকিরা খেলা করে,
পুচ্ছালোকের প্রতি জ্বলন-নিভনে নতুনত্ব খুজে পাই-
এ যেন ভালোবাসার পরশমণি!
.
বালিকা! ভালোলাগার তো কোন কারন হয়না,
"ভালোলাগে,তাই ভালোলাগে!"
তাইতো ভালোবাসি!
.
ঐ আঁখিদ্বয় করেছো কুঞ্চিত-
বোঝনি কারন তো কারন নয় এতো মনের আত্মপ্রকাশ!
তাইতো ভালোবাসার কারণ থাকতে নেই-
ফিরে তাকিয়েছি আখিঁর পানে দেখেছি নোনাজলের
সমুদ্র!
এ কান্না কি তবে মিথ্যে?
বালিকা! আমি সত্যই জেনেছি বারংবার।

খোদার কথা বল


        খোদার কথা বল

______________________________
            - নাজমুস সাঈদ


মৃত্যু আমার নিত্য সাথি,জগত জ্ঞাতীর দল
বলবেনা কেউ তোমায় রেখে,আমায় নিয়ে চল,
এ ভূবনের জ্ঞানের পাহাড়,
স্বৈরাচারীর বিলান আহার,
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল!
তাই জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

মুসলিম তোর ঐ জানাজায় শরীক যারা হয়,
হোক সে শ্রমিক হোক সে রাজায় ফেরেস্তারাও রয়।
প্রাণের আখি বন্ধ হলেই সবাই তোমার পর,
এতদিনের জমাজমি দালান বাড়িঘর;
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল,
জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

নির্মলেন্দু গুন


               নির্মলেন্দু গুণ

_________________________________________
                 - নাজমুস সাঈদ


কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে,
নিন্দুকেরা শুনে রাখ আজ, ফুটিয়ে তুলছি বিবৃতে
কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে।

বাংলাদেশের কাল বেলাতে,ফুটেছে রক্ত কবিতা,
দেখেছেন কবি অন্তরালে, নতুন আশার ছবিটা;
লিখেছেন তিনি, ভেবেছে সবাই, সংগ্রামী মনোচিত্তে,
নতুন আশা জেগেছে মননে, দূরাশা নিতিনিত্যে;

পেয়েছি নতুন দেশের মাটি সংগ্রামীদের প্রয়াসে,
কবির কলম ছিলোনা থেমে,বসে নেই তবু আয়াসে।

চলছে চলুক বিশ্বমাঝে, হ্রদয় গলুক সবে,
একুশে পদক করেছে গ্রহন আত্মনিষ্ঠ ভবে -
নিন্দুকেরা ভুলেছে সবি, কান পেতে আজ শুন
চেতনায় মোর, অন্তস্তলে নির্মলেন্দু গুণ।

গ্রামের দেশে


          গ্রামের দেশে

____________________________
           

-নাজমুস সাঈদ


সবুজে সবুজ মিলিয়ে আজ হচ্ছি একাকার,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

গ্রাম্য মেয়ের চলন বলন
দেখছি করে মুগ্ধ নয়ন,
পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গেছে দেখছি নদীর পাড়,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

মাছ শিকারের জাল দেখছি,
নাওয়ের মাঝির হাল দেখছি,
গ্রাম্য পথের বাক দেখছি,দিচ্ছে উজান পার -
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

আলো ছায়ার মিল দেখছি,
উড়ন্ত গাংচিল দেখছি,
সবুজ মাঠের প্রান্ত খুজে, হচ্ছি নিরাকার-
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

হঠাৎ এলো বৃষ্টি নেমে,
রেলের গ্লাস আজ যাচ্ছে ঘেমে,
ধুলাই ভরা এই প্রকৃতি সাজছে নতুন সাজ,
রেলগাড়িরই একটি কোনায়
মাতছি আমি দস্যিপনাই
ভেজা গ্লাসের প্রান্ত দিয়ে দেখছি এসব আর,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রাত পোহালে প্রাতে


   রাত পোহালে প্রাতে
_____________________
     -নাজমুস সাঈদ


বৃদ্ধাশ্রমে ঘুমায় মাতা
গগন ঘুমায় রাতে,
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।
বৃদ্ধ মাতার ব্যস্ত ছেলে
কাজ করে দিন সন্ধা মিলে
সময় যে নেই হাতে!
রাত্রি বেলা ফিরে ঘরে
অর্ধাঙ্গিনী সঙ্গে নিয়ে
রয় যে দুধে ভাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

সুখের পাখি, নিরব আঁখি তুলে
খাচ্ছে মাথা ছেলের যে আজ
মায়ের সোহাগ ভুলে;
ভুলছে ছেলে মায়ের সোহাগ,
ভুলছে বাবার নিরব বিরাগ,
খরচ অনেক ছেলের যে তার
পড়লো বয়স সাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

রাতের খাবার সামনে নিয়ে
বৃদ্ধ মাতা ভাবে,
খেয়েছে কি ছেলে আমার?
দেখেছি সেই কবে!
আমি যেমন ভাবছি কথা
ছেলেও কি মোর ভাবে,
মা টা আমার খেয়েছে কি
অনাহারেই রবে?

কাল ছেলেরই জন্মদিনে,
কোরমা,পোলাও, পনির মিলে
দারুন মজা হবে,
বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট ঘরে
করবো দোয়া কাতর স্বরে
ওদের সুখের অশ্রু যেন
বিধি কেড়োনা এই ভবে,
শুভদিনে একটি পলক
দেখবো ছেলের মায়ার অলক
সময় কি তার হবে?
ওদের সুখের ছন্দ দেখে
রইব আমি দারুন সুখে
মৃত্যু মুখেও রাখবো আশীষ
তুলে এ দুই হাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।