শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬


 রক্তিম রঙপেন্সিল

__________________________

    -নাজমুস সাঈদ


আমি একটা আকাশ আঁকবো
যেথা মেঘ করবে খেলা অবেলায়,
পাখি উড়বে ডানা মেলে প্রভাতে'
চাঁদ হাসবে মৃদু আলো সাথে;
আমি ছাদে বসে জোছনা মাখবো-
আর আকাশ আঁকবো!

আমি একটা আকাশ আকঁবো
যার বুকে ধারিত হবে অজশ্র তারা,
প্রশ্নবিদ্ধ নিষিদ্ধ রাতগুলো
বিয়ারের বদৌলেতে আমি তুলি রাখবো;
আর আকাশ আঁকবো!

রক্তিম সূর্য কিংবা গধূলীর রক্তিমায়,
কীটের মতো টেনে হিচড়ে হটাবো ধূলি,
গ্রাফিক্সের দৌলতে জড়ের মুখে ফোটাবো বুলি!
দূষিত পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য কীটজ,কীট্রজ
ক্যাটানল বহির্ভূত যত রক্তিম রহস্য,
আঁকাবো, ফোটাবো,মেলাবো,জ্বালাবো দূর্দশাই কালি
কালো আকাশের মেঘ হটিয়ে নীলই রাখবো,
আর আকাশ আঁকবো!

তনু,খাদিজার রক্ত'গধুলীর রং
জেলিনের মায়ের অশ্রু'তার্পিন,
রক্ত,অশ্রু মিলে মিশে একাকার-
রং কি হবে? এই তো রং,
নিরব আর্টে হাহাকারেই ছত্র দাগবো,
আর আকাশ আঁকবো।


       তেলাপোকার ঝোল

________________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ


প্রভাত হতেই ঘুমের ব্যাঘাত, কলিংবেলের শব্দ,
একের পর এক আসছে মানুষ, করছে আমায় জব্দ;
আমি আবার ঘুম কাতুরে, হচ্ছি পুরোই দগ্ধ
চলছে তবু অবিরত, কলিংবেলের শব্দ।
আজ বুঝি আর ঘুম হবেনা, বুঝছি অতি সদ্য,
বাড়িরই আজ অনুষ্ঠানে, চলছে পনির মদ্য,
এমনভাবে ঘুম ভাঙালো, মানছিনা আর অতি;
এই ঘটনার প্রতিশোধের নিলাম প্রতিশ্রুতি।

পিঠা, পুলি, পনির পানে সবার মুখেই হাসি,
ফুলছি আমি, ঘুম ভাঙ্গালি? আসুক সন্ধা-নিশী,
খুজছি সুযোগ, রান্নাঘরে, দিচ্ছি উকি সাঝে,
কাজের মামা ব্যস্ত অতি বিরাম যে নেই কাজে;
বলি, ও মামা, শ্রান্ত তুমি, বসো তো ঔ খানে,
দেখছি আমি রান্না তোমার, সমস্যাতে আওয়াজ দিও খনে

এতক্ষনে ফুটলো ঠোটে একটু হাসির রেখা,
তরকারিতে ঝালের সাথে, দিলাম তেলাপোকা!
খাবার ঘরে খাচ্ছে সবাই কোরমা, পোলাও, রোল;
হাসছি আমি, ভেবেই সারা, তেলাপোকার ঝোল!

          বদলাতে চাই

______________________________________

             -নাজমুস সাঈদ



বৃক্ষের দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
নদীর পানে চেয়ে, আমি হয়ে হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি আমার দৃষ্টি বদলাতে চাই!
ঝরনার দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি ঝরনার বৃষ্টি বদলাতে চাই!
প্রকৃতির দিকে চেয়ে, আমি হয়ে গেছি একঘেয়ে,
আমি পৃথিবীর সৃষ্টি বদলাতে চাই!

গাছ-নদী-ফুল, ঝরনা অকূল, দেখেছি কুড়ে ঘর,
দেখেছি নদীর পাশ কেটে ওঠা নির্মল বালুচর।
দেখেছি সবি দেখিনাই শুধু পড়ে থাকা পথশিশু
প্রকৃতির পানে চেয়েছি শুধুই, দেখা হয়নাই কিছু।

একদিন বসে বৃক্ষছায়ায়, হাতে নিয়ে দুটি রুটি,
দেখছিনু বসে পথশিশুদের, ফুল নিয়ে ছোটাছুটি,
এক ছেলে এসে, দৌড়ে কাছে, জড়ায়ে ধরলো হাত,
ভাইয়া আমি ক্ষুধার্ত ভারি, খাইনিকো দুই রাত;
এই নিন ফুল, আমার গাছের, তুলেছিলো বোন কুটি-
বদৌলেতে দিন খাবার আমায় ঔ হাতে থাকা রুটি।

পড়লো ঝরে অশ্রু ফোটা চোখ হতে মোর হাতে,
আমি খেয়েছিনু গোস্ত পোলাও গত দুইতিন রাতে!
এ খাবার কার, কে করে আহার? গরিবের চোখে জল!
দেখেছিনু চেয়ে ছোট্ট শিশুর চোখ করে টলমল।
দিয়ে রুটিদ্বয় বললাম, 'বাবু, লাগবেনা এই ফুল,
দিয়েছ ফিরিয়ে বিবেক আমার,সবি ছিলো মোর ভুল।'
থেকো ভালো সদা করে হাসিমুখ, আহার যদি না জোটে,
চলে এসো এই গরীবখানায় খেয়ে নিবো এক পটে;
আমার আহারে  উদরপূর্তি করে যদি এই শিশু
প্রশান্তিময় এর থেকে আর,ভবে নেই কোন কিছু।

                 মানুষ

_________________________________________

               -নাজমুস সাঈদ




ছোট্ট ঘরের কোনগুলো আজ নিরব নিথর ভবে
বাবা-মায়ের শত শত স্মৃতি অবেলায় পড়ে রবে,
আমি আর আমার ছোট সংসারে একটু শোকের দিশা
কেটে যাবে তাও সময়ের সাথে ভুলে যাবে অমানিশা,
পুড়ব আমি একলা শুধুই আমার মায়ের স্মৃতি
কোলে করে মাতা করেছে বড়,  হইনিকো যথারিতী।
💜
মানুষ হয়ে নিয়েছি জন্ম, মানবতা নিয়ে হয়নি,
আমার বাবার সত্য-নিতী আমি বারেবারে পায়নি;
মানুষের মত দেখতে সবাই হয় কি মানুষ সবে,
একি গঠনের গ্রন্থদ্বয়ে কি, একি লেখা পড়ে রবে?
জমজ বলে কি এক ভাই হবে অন্যের প্রতিচ্ছবি,
একি গঠনের আলো দেয় কিগো চাঁদ মামা আর রবি?
💜
আমি কুৎসিত, কদাকার আমি, এ কি মোর পরিচয়,
সুন্দর সেত মাকাল ফলও, বৃথা কেন পড়ে রয়?
গায়ের রঙটা কালো কি সাদা, কি যায় তাতে আসে?
চেয়ে দেখো ঐ কালো মুখপানে, মায়া ভরা অভিলাষে!
সাদা রং সে তো হয় কালো-লাল ক্রোধ,ভয়,লজ্জায়
কালো রং সে তো একি থাকে সদা, শত ভুল অভিপ্রায়।
💜
তুমি শ্বেতাঙ্গ আমি কৃষ্ণ দুয়ের মুখেই হাসি,
একি স্রষ্টার হাতে গড়া সবি হাসি মুখে একরাশি,
তুমি বড় বড় প্রসাদের রাজা, আমি কুড়ে ঘরে থাকি,
তোমার অন্ন, রয় অনন্য, গরীবের পেটে লাথি!
আমি কুড়েঘরে হাসি মৃদুভাবে, দেখে ঐ চুনকালি,
সামনে যতই সম্মান পাও, পশ্চাতে পাও গালি!
তুমি মহারাজা, সর্বেসর্বা ! তুমিই বড় ভিক্ষারী,
গরীবের বুকে পা দিয়ে তোমার আজ এত বাহাদুরি।
💜
আমি ছোটজন, ভিখারি তো নই, আছে মোর দৃঢ় মন,
সব মানুষেরে সমাদর করি, সবে মোর প্রিয়জন;
মানুষ আমি, আমি মানবিক, গতর খাটিয়ে খাই
হোক না কৃষ্ণ, কুৎসিত মুখ, মানবতা অভিপ্রায়। 💜


                   বন্ধু

_______________________________________

                -নাজমুস সাঈদ



প্রতিদান চাই না আমি, চাই ফিরে আমার শৈশব
বন্ধুসকল কত জাগরণ, শত সুখময় স্মৃতি ঐসব।

বাধা ছিল সব একি ডোরে, আজ হয়ে গেছি একঘরে;
ছিলো ছন্দ, মনের দ্বন্দ্ব, ছিলো আশা-দূরাশার গন্ধ,
ছিলো মারামারি ভরা দিনতো, আমি ভুলিতে পারিনি কিন্ত।

কত টিফিনে বসানো ভাগ, আর মালিকের শত রাগ,
আজ ফিকে হয়ে গেছে স্মৃতি, আমি ভাবছি যথারীতি।

ছিলো শান্ত, দুরন্ত,  দস্যিপনায় দক্ষ,
হাসিখুশি রাখতো মোদের, অনাবিল শ্রেণীকক্ষ।
ছিলো সৌরভ, নাজমুল-হাদি, ছিলো কাটাহেরীকান্ত,

মতি সেপু ইতি সুনিবিড় স্মৃতি, আজও রয়ে গেছে শান্ত!
নান্টু আসিক বেজায় রসিক,ছিলো সাথি মোর খেলার
মনে পড়ে আজও শত রসিকতা,মোর ঐ ছোটবেলার।

নিশী-মনি-মিম, বিথী-সাথি, আরও ছিলো মনি কিন্তু
হাবাগোবা ছিলো ছোট রিমী বুড়ি, ছিলো হাসি খুশি রিন্তু।

এলেম খোকন তোহা আনন্দ, আরও ছিলো রাজু ভাই
স্মৃতি সব আজ, করছে বিরাজ, ভুলতে তো পারি নাই।

সাওদা মনির নেকু নেকু কথা, কেরানি কাকুর হিসাবের খাতা
ফিকে আজ সব, রঙহীন সব, পড়ে আছি বহু দূরে
মনে পড়ে তবু স্মৃতি আম্লান, মনের আস্তাকুড়ে।
কফি কাপ আজও হাতে আছে শুধু নেইক তো সেইদিন
পাতা উল্টালে স্মৃতির খাতা, পড়ে রবে অমলিন!