সোমবার, ২৮ মার্চ, ২০১৬


ছোট্ট সোনামনিদের জন্য একটা ছড়া।

মশা

_________

      - নাজমুস সাঈদ

মশারা পাজি ভারি
কামড়ায় রাত্রে,
জন্মায় পানিতে
জমা থাকে পাত্রে;
হুল ফুটে শুষে তারা
মানুষের রক্ত,
কাজ নাই সারাদিন
করে বিরক্ত।
ওরে মশা তোরাতো
ডেঙ্গুর পোষক,
মানুষের রক্তের
তোরা হলি শোষক;
ম্যলেরিয়া জীবানু
ছড়াস রাত দুপুরে,
পাওয়া যায় তোমাদের
ঔ রাজপুকুরে।

রবিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৬


বসন্ত বন্দনা

__________________________

                   -নাজমুস সাঈদ

আকাশ পানে তাকিয়ে দেখি গুচ্ছ মেঘের খেলা,
পাতার ফাঁকে মৃদু বাতাস বয়ছে সারা বেলা;
সুরগুলো আজ নতুনরুপে দিচ্ছে আমায় ধরা,
ফুলের শোভায় মাতোয়ারা আজ প্রকৃতি পাগলপারা।
বসন্তরুপ মধুর করে কোকিল পাখির ডাক,
ফেরিওয়ালা ঘন্টা হাতে হাক ছেড়েছে হাক;
গোলাপ-জবা-জুঁইয়ের ডালে মৌমাছিরা ঘোরে,
কোকিল-চড়ুই-দোয়েল-শ্যামা ডাকছে নতুন সুরে;
এত মধুর সমন্বয়ে হচ্ছি মাতোয়ারা,
বসন্তরুপ নতুন সাজে আমি পাগলপারা।

ছোটগল্প)
চাঁদনি রাতে - কপতিকা
___________________________________
লেখাঃ নাজমুস সাঈদ
রাত ১২.৩০!
নিলীমা বেলকনিতে ইজি চেয়ারে বসে আছে।
পাশে নিলয়।
নিলয় বসে আছে ডান পাশের চেয়ারে। দুজনের হাতে
দুটো কফি মাগ।
নিলীমা নিলয়ের দেওয়া নিল শাড়িটা পরেছে আজ।
নিল শাড়িতে তাকে অপরুপ লাগছে। কিছু কিছু মানুষের
জন্য কোনো বিশেষ রং তৈরি। নিল রঙটা হয়ত নিলীমার
জন্যই তৈরি।
চাঁদের আলোতে অপরুপ লাগছে কেন আজ নিলীমাকে? -
নিলয় মনে মনে ভাবতে থাকে।
নিলয় পরেছে হলুদ পাঞ্জাবি।
- তুমি এটা কি পরেছ?
- এটা একটা পোশাক নিলা। বাংলায় এটাকে
পাঞ্জাবি বলে।
- তা আমি জানি। কিন্তু তাই বলে হলুদ। তুমি জানোনা
হলুদ আমার অপছন্দের রং।
- জেনে নিলাম।
- এক কাজ করো,তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবিটা খুলে
ফেলো। আমি এখন এটাকে পুড়াব। চাঁদও হাসবে আমার
কান্ড দেখে।
- সত্যিই পুড়াবে?
- না। আজ থাক। আজকের রাতটা নষ্ট করতে চাইনা
নিলয়।
- আচ্ছা আজ যেন কি?
- আজ পূর্নিমা। পূর্ন পূর্নিমা।
- ও
- তোমার মনে আছে আজকের এই রাতটির স্বপ্ন আমরা
প্রথম কবে দেখেছি?
- ঠিক মনে নেয়।
- জানতাম মনে রাখবে না।
- বাহ তুমি তো বেশ বোঝো।
- হু। তা বটে।
- আচ্ছা নিলা বলোতো,পৃথিবী গোল কেনো?
- পৃথিবিটা গোল কারন তুমি আমার অপূর্নতা পূর্ন করতে
অবশ্যয় আমাকে খুজতে কিন্তু পৃথিবী গোল না হলে
আমাকে পেতে কোথায়?
- বাহ। তুমি বেশ বুদ্ধিমান। আমি অভিভূত।
- থাক আর পাম মারা লাগবে না।
নিলয় হাসতে থাকে। নিলা আজকাল অনেক গুছিয়ে কথা
বলছে। ব্যাপারটা নিলয়ের বেশ ভালো লাগছে।
- নিলা,একটু হাসতে ইচ্ছে হচ্ছে। তুমি কি আমাকে
হাসাতে পারবে?
নিলা কথার উত্তর দিলোনা।
- নিলয়, গতকাল আমার রুমে এসে বললো " মা,
তোর বাবা অনেক খুশি হয়েছে। তুই উনার দেখানো
পাত্রকে বিয়ে করতে চেয়েছিস তাই।"
আমি বললাম," বাবা কি ভাবছেন?"
- বলছিলো তোর বিয়ের দিন নাকি ঘোড়ার পিঠে করে
তোকে শশুর বড়ি পাঠাবে।
- মা; এটা সত্যিই অদ্ভুত। তবে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে
গেলে সমস্যা বেধে যাবে। বাবাকে বরং অন্য কিছু
ভাবতে বলো।
- তুই শুধু সবকিছুতে খুনসুটি করিস।
- আচ্ছা মা,একটা কথা বলি?
- বল।
- আমি যদি বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে না করি
তাহলে কি বাবা আমাকে ঐ ঘোড়া দিয়ে লাথি
দেওয়াবে?
নিলয় এবার সত্যিই হাসি আটকাতে পারলো না। হাসতে
হাসতে মনে হলো গড়িয়ে পড়বে।
নিলা অদ্ভুত দৃষ্টতে তাকে দেখছে। নিলয় এত সুন্দর
হাসতে পারে? এটা নিলা আগে কখনো লক্ষ করেনি।
নাকি পরিবেশ তার হাসির সৌন্দর্যটাকে আরও
বাড়িয়ে দিচ্ছে? হয়ত তাই। একই হাসি দেখতে একেক
পরিবেশে একেক রকম লাগে।
- নিলা।
- বলো।
- আজ আমার হাত ধরে হাটবে?
নিলা উঠে দড়ালো। নিলয়ের হাত ধরে তাকে ছাদে
নিয়ে গেলো। ছাদে চাদের আলো আরও উজ্জল। এই
চন্দ্রালোকে দুজন কপত কপোতি হাত ধরাধরি করে
হাটছে। এর থেকেসুখানুভূতি আর কি হতে পারে?
- নিলা,কাল আমাদের বিয়ে।
- হুম জানি! আমরাই একমাত্র কপোত কপোতি যারা
বিয়ের আগের রাতে জোছনা দেখছি।
- হুম। চলো আজ রাতটা জোছনা দেখেই কাটিয়ে দিই।
নির্ঘুম।
- ঠিক আছে।
এখন নিলা আর নিলয় ছাদে বসে আছে। নিলয় চাদের
দিকে তাকিয়ে আছে আর নিলা তাকিয়ে আছে নিলয়ের
মুখের দিকে। কি পাগল এই ছেলেটা। কতো অদ্ভুত
ভঙ্গিতে জোছনা দেখছে। কতটা নিষ্পাপ লাগছে
তাকে। নিলা ক্ষনিকের জন্য ভুলে গেলো যে সে আজ
বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে,এই পাগলের হাত ধরে।

শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৬


নাম ছিলো তার ববিতা

__________________________

                            - নাজমুস সাঈদ

ববিতা নামের সেই মেয়েটি সত্যের পথে চলতো,
যুদ্ধের সাজে রণাঙ্গনের কষ্টের কথা বলতো;
পাক-বাহিনীর নিলজ্জতার প্রতিচ্ছবি লিখতো,
তার চেতনায় হাজার মানুষ যুদ্ধযাত্রা শিখতো।
২৫-এ মার্চ কলম হাতেই লিখছিলো সে কবিতা;
সত্যের কথা বলতো যে সে,নাম ছিলো তার ববিতা।
অত্যাচারীর কালো থাবা পড়লো যেদিন আকাশে
লিখছিলো সে কলম হাতেই সুর ছিলোনা বাতাসে;
অস্ত্র হাতে পাক বাহিনী মারলো বুদ্ধিজীবী,
ছাড় পেলোনা সেই মেয়েটিও,সে যে বাংলার কবি।
একে গেছে তবুও সে রণাঙ্গনের ছবিটা
সত্যের পথে চলতো যে সে,নাম ছিলো তার ববিতা।

শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০১৬


স্বাধীনতার মুক্তিকামী

___________________________

                         - নাজমুস সাঈদ

আমি স্বাধীনতার মুক্তিকামী,
অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখি
মৃত শহীদের বদ্ধভূমি
আমি স্বাধীনতার মুক্তিকামী।
পরাধীনতার শিকল টুঁটে
অস্ত্র হাতে চলছি ছুটে;
আমি যে আজ মৃত্যমুখি
লাখো মানুষেরে দেখতে সুখি,
ছেড়েছি মোর ছোট্ট কুটির
যোগান দিতে বস্ত্র রুটির।
সইব না আর শোষক শ্রেনীর
অত্যাচারের অগ্নিশিখা,
গুলির চোটে নিজের পটে
মুছবো যে আজ সীমারেখা;
স্বাধীনতা সবে মুক্তির স্বাদ
আমি জগৎস্বামী
স্বাধীনতার মুক্তিকামী।

ফটোসপে আঁকা ছবি

___________________________

                       - নাজমুস সাঈদ


যেখানে সমাজ বিকৃত আজ
ফটোশপে আকাঁ ছবি
দেখতে দেখতে বড় আজ আমি
আমি যে নতুন কবি।
সে ছবি ভুল যেখানে মিথ্যা
আকাঁ থাকে সদা সত্যে,
তফাত সেখানে বোঝা মুশকিল
সত্যে আর মিথ্যে।
হে রনবীর,
জেগে উঠো আজ নব মানবতায়;
যেখানে সবাই দেখে চলেছে মিথ্যার রেশটাই-
ভাবছে এটাই সত্য ছবিতো
ভুল কিছু নেয় এতে;
পশ্চাতে তার ভুলের পাহাড়
রয়ে গেছে নিতি-নিত্যে।
ভুল ত্রুটি আজ ধরিয়ে দিচ্ছি
গগনে উঠেছে রবি,
এ ছবি আজ প্রকৃত যে নয়
ফটোসপে আকাঁ ছবি।

বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৬


চেতনা আমার ১৯৭১

__________________________

     - নাজমুস সাঈদ


মা,হাতে খুন লেগেছে মোর,
ভেবে চলেছি রাত ভোর
চেতনা আমার- ১৯৭১!
আজ হাতে খুন লেগেছে মোর।
রক্তে আমার জ্বলছে অগ্নশিখা
ফুটছে বোমা মুচছে সীমারেখা;
আমি সৈনিক বীর বাঙ্গালী-
ভয়-ডর সব পিছনে ফেলি
এগিয়ে চলেছি সম্মুখভাগে
মায়ের প্রতি শেষ অনুরাগে,
জীবন বাজি রাখবো আমি
আমি বাংলার-বাংলার আমি।
ওমা তোমার সোনার ছেলে,
তোমার কোলকে একা ফেলে
ছুটছে অপর মায়ের টানে
দেশ-মাতৃর মুক্তি পানে।
ওমা দিওনা ডাক পেছন থেকে,
তোমার ছেলে মুক্তির দূত
হাজার ছেলের সুখের লাগি
লাল সবুজের স্বপ্ন আঁকে।



তুমি মানবিক

_______________________

                  - নাজমুস সাঈদ

কবিতা আমার মানবতার কথা বলে
সচেতন মন দেখোনা দুআঁখি তুলে
তোমার সামনে হয় মানবিক
শত শত দুশমন
সচেতন হও দেখিতে পাইবে
খুলে দাও নিজ মন।
চুরির দায়ে চোরেরে যদি
মার দাও তুমি প্রাতে
তফাত কিসে থাকবে বলো
চোরে আর তোমাতে?
ধিক শতাধিক তোমার প্রতি
হও যদি তুমি অন্ধ
পথশিশুর দূঃখ দেখেও
চোখ রাখো যদি বন্ধ
তুমি মানবিক, মানবের দিক
থাকে যদি তোমাতে
মানবদূঃখ ঘোচাতে তুমি
ব্রতী হও দিন-রাতে।

বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০১৬

হিমালয় 

_____________________

             - নাজমুস সাঈদ নাবিল

হিমালয় তুমি উচ্চ অতি
সম্মান কি তব উচ্চ আছে অত?
যেথা মাটিতে পড়া ফল ছয়না কেহ-
সেথা গাছের ফল বাদুড়ে খেলে
জাত কি তোমার যেত?
অতিথী পাখি দল বেধে আসে 
তোমার উপর দিয়ে,
তুমি কি পারো না নত হতে সেথা 
পাখিদের উপকারে?
বড় হয়ে সেথা কি হবে যেথা,
উপকারে নেয় মন?
পরের দূঃখে ভাগ নিলে পরে;
হবে সে আপনজন।
হিমালয় তুমি ভাবো কি তবে
উচ্চ করে শির?
সকল পাহাড় জয় করে তুমি 
হয়ে গেছো মহা বীর?
ধিক্কার সেই বীরেরে তবে
মানবতা নেয় যার,
মানবতা লাগি টিকে আছে আজো
জগৎ সংসার।
বীর হয়ে সেথা কি হবে যেথা
উপকারে নেয় মন?
পরের দূঃখে ভাগ নিলে পরে;
হবে সে আপনজন।