শনিবার, ২১ মে, ২০১৬


সত্যাভিলাষ

__________________

- নাজমুস সাঈদ


সত্যের করো সন্ধান
যা মাথা নোয়াবার নয়,
মিথ্যার মাথা নত থাকে সদা
সত্যের হয় জয়।
আকাশের রং নীল হতে যদি
লাল হয়ে যায় কভু,
মিথ্যা কথা তথাপি কখনও
সত্য কি হয় প্রভু!
সত্য সদা পিছুটানহীন
লেখ্য কিংবা কথ্য,
ভাবলেশহীন মাথা উচু করে
বলে যাবো সদা সত্য।

উৎসর্গ বাংলার শহীদদের নামে।
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''

       মাথার খুলি

___________________________________

        - নাজমুস সাঈদ

হে পথিক,হয়ত ভাবছ কার এ মাথার খুলি,
তাহলে আমাকে বলতেই হবে স্বাধীনতার বুলি।
শুনতে কি চাও এ দেশের ঘৃনীত ইতিহাস?
যুদ্ধ মাঝে কেটেছিল যার পুরো নয়টি মাস।
প্রারম্ভেই হয়েছিলো দেশে বৃটিশদের আবাস,
বাংলার মানুষকে দিয়ে তারা করেছিলো নীল চাষ।
বাংলাদেশের সোনার ফসল ব্যতিরেখে পাট,
নীল চাষে বেধেছিলো তারা সোচ্চারী আট-ঘাট।
কৃষক শ্রমিক হয়েছিলো সোচ্চার,
শুরু হলো তাদের উপর প্রবল অত্যাচার।
বাঙ্গালীর বুকে ছুড়েছিলো তারা বুলেটেরি গুলি;
বলতে পারি এগুলো তো তাদের মাথার খুলি।
এরপর এদেশে এলো আয়্যুব খান,
রাষ্ট্রভাষা বাংলা রেখে উর্দু করতে চান।
তাদের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীরা করেছিলো প্রতিবাদ;
নিসংস গনহত্যায় তারা করেছে রক্তপাত।
বাঙ্গালীর বুকে ছুড়েছিলো তারা বুলেটেরি গুলি,
বলতে পারি এগুলো তো তাদের মাথার খুলি।

    জাগো কবি কবিতার লাগি

___________________________________________

                - নাজমুস সাঈদ

আজ জাতি-বর্ন-ধর্ম-গোত্র বিরুপ করেছে আমায়,
কাঙ্গাল বলে গালি দিছে মোরে কাঙ্গাল আমি নই।
আঁকতে বসিনি বিবেকে ছবি,
এ আমার ভুল,আমি যে কবি।
বেশি কিছু তো চায়নি আমি-
চেয়েছি প্রভাতের রং লাল না হয়ে হোক সবুজ,
কবিতার পাতা ছন্দহীন না হয়ে হোক ছন্দময়,
সুরহীন প্রান্তর হোক সুরময়।
হে কবি,লেখনি তোমার ফুটিয়ে তোলে কালিমার
জাতিস্বত্বা;
তাই বলে কি লেখনি তোমার হয়ে যাবে কভু মিথ্যা?
লিখে যাও তুমি নির্ভিক চিত্তে আত্মমনোবলে,
লেখনী তোমার থামবেনা কভু রাজনীতি কোলাহলে।
ভয়-ডর নিয়ে লেখালেখি কভু করেনি কোন কবি,
চৌদ্দ শিকেও কবি নজরুল ধরেছে তুলে মানবতার ছবি।
তোমার লেখনি ভুল কভু নয় সত্যের বহিঃপ্রকাশ,
ছুরিকাঘাতে ছোট্ট শিশুকে হতে হয় কেন লাশ?
কি পেল সে জাতির কাছে? এটা কি কালিমা নয়?
দুধের শিশুও মুক্তি পাবেনা,করে যাবে সদা ভয়?
স্বাধীন জাতি,স্বাধীন মোরা,স্বাধীনতা তবে কোথা?
লাশ-খুন-গুম দেখতে দেখতে হয়ে গেছে আজ প্রথা,
ডরিনা আমরা কেও আর দেখে পড়ে থাকা কাটা লাশ,
মানবজাতীর মুক্তি একি? নাকি কোন উপহাস?

        বিলাসী-তা

____________________________

         - নাজমুস সাঈদ

বিলাসীতা মোর স্কন্ধে ঢুকেছে বুঝতে পারিনি কভু,
এমতাবস্থায় উন্নতি মোর হবে কি কখনো প্রভু?
দারিদ্রতায় নিপিড়ীত হয়ে গেয়ে গেছে যারা সত্য,
আমি কি পারবো তাদের মতো রেখে যেতে মোর কথ্য?
বিলাসীতা-বিলাসীতা-বিলাসীতা করে চলিছে মোর
জীবন;
ক্ষুধায় কাতর পথ শিশুদের দেখিতে পায় যখন-
মনে হয় করি এমন কিছু করেনি যা কেউ আগে,
সমাজ আমার পেছন থেকে টেনে ধরে আগে ভাগে।
কি করিব এই সম্পদ পাহাড়? যদিনা জোটে গরিবের
আহার!
স্কন্ধে চেপে বিলাসীতা মোর বয়ে চলে সাথে,
এ যাতনা মুক্তি পাবার পথ কি কিছু আছে?

   তুমি মানবিক

_______________________

    - নাজমুস সাঈদ


কবিতা আমার মানবতার কথা বলে
সচেতন মন দেখোনা দুআঁখি তুলে
তোমার সামনে হয় মানবিক
শত শত দুশমন
সচেতন হও দেখিতে পাইবে
খুলে দাও নিজ মন।
চুরির দায়ে চোরেরে যদি
মার দাও তুমি প্রাতে
তফাত কিসে থাকবে বলো
চোরে আর তোমাতে?
ধিক শতাধিক তোমার প্রতি
হও যদি তুমি অন্ধ
পথশিশুর দূঃখ দেখেও
চোখ রাখো যদি বন্ধ
তুমি মানবিক, মানবের দিক
থাকে যদি তোমাতে
মানবদূঃখ ঘোচাতে তুমি
ব্রতী হও দিন-রাতে।

চেতনায় কবি-হ্রদয়ে কবি

__________________________________

               - নাজমুস সাঈদ


গান-গীতি-লেখ সাহিত্য নিয়ে সুনিবিড় পথচলা
আত্মাহংকার রেশটুকু ছেড়ে হয়েছি যে পথ ভোলা,
চেতনার দ্বার খুলেছি মননে
হ্রদয় ভেবেছে কবিজি স্মরণে
আত্মভোলারে পথ দেখিয়েছে নিত্য দিনরাত্রে,
রবীন্দ্রনাথ,কবি নজরুল শোভা বেধেছি নিজ গাত্রে।
.
সুরের পৃথিবী মাতামাতি আজ নজরুল-রবী গীত্যে
মনের দোয়ার,তুলেছে জোয়ার খুলে দিছে নিতি-
নিত্যে,
চোখের বালি,গোরা,যোগাযোগ কিংবা চতুরঙ্গ,
রবীর সৃষ্টিকর্ম গড়েছে বাংলা মায়ের অঙ্গ!
প্রকৃতির পটে স্থাপিত জীবন হয়েছে বিশ্বজনীন
শত স্তুতিও শেষ হবেনা রবীঠাকুরের ঋণ।
.
সাম্যবাদের শিক্ষা পেয়েছি নজরুল গীতি-কাব্যে,
নিয়েছি দিক্ষা,পেয়েছি শিক্ষা,তৃষ্ণার্ত মন ভাববে,
এ কেমন গীতি,এ কেমন ভাব,এ কেমন সুর-ছন্দ?
শিক্ষার দ্বার খুলে গেছে মোর,অন্য সকল বন্ধ!
স্কন্ধে চেপে নজরুল গীতি শিখেছি বিদ্রোহ,
শিউলিমালা,বাধনহারা,কুহেলিকা আছে বহ।
.
বদ্ধ খাচায় বাধা থেকে রবী লিখেছে গীতাঞ্জলী,
বিশ্বদ্বারে সমাদৃত, হয়েছে গান কলি!
সে রবীরে আজ হ্রদয়ে বেধেছি,চেতনায় নজরুল-
পদচিন্হেই ফুটে আছে ওরে রক্তিম তাজা ফুল।

বুধবার, ৪ মে, ২০১৬


           মা

_______________________

      নাজমুস সাঈদ

প্রষ্ফুটিত ভ্রুণের থেকে
সবার বৃহৎ দেহ,
সেই ভ্রুণেরই আধার যেথা
বুঝলো নাতো কেহ।
.
মাতৃকোলে ছোট্ট শিশু
লালিত হয় সুখে
সেই মায়েরই বৃদ্ধাশ্রমে
অন্ন জোটে মুখে।
.
অমরা থেকে পুষ্টি শুষে
শোষক হলি বড়,
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বয়ছে হাওয়া ঝড়ো।
.
সপ্তদিকে চোখ মেলে দেখ,
আদর সোহাগ নিজপ্রাণে মাখ,
ওই মায়েরই চাইতে ওরে
নয়তো কেহ বড়ো-
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
রুগ্ন দেহে,জীর্ণ শিরে,
যেদিন ছিলি মায়ের নিড়ে
সেদিন তো কোই এমন ভাবে
চাসনি হতে কারো?
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
মায়ের দুধের প্রতি ফোঁটা
গড়েছে তোর দেহ গোটা
সেই দেহতে সান দিয়ে আজ
পুথি কিতাব পড়ো,
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
মায়ের চোখে তাকিয়ে দেখ
মায়ার সাগর ছাপিয়ে দেখ,
ঔ মায়েরই অশ্রুকণা
গড়ছে নদী-চরও
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।
.
তোমার সুখে সুখি মাতা,
নিয়ে জীর্ণ শীর্ণ ছাতা
কেমন জীবন পার করেছে
বুঝতে কি কেউ পারো?
সেই মায়েরই অশ্রুজলে
বইছে হাওয়া ঝড়ো।