ছোটগল্প)
চাঁদনি রাতে - কপতিকা
___________________________________
লেখাঃ নাজমুস সাঈদ
রাত ১২.৩০!
নিলীমা বেলকনিতে ইজি চেয়ারে বসে আছে।
পাশে নিলয়।
নিলয় বসে আছে ডান পাশের চেয়ারে। দুজনের হাতে
দুটো কফি মাগ।
নিলীমা নিলয়ের দেওয়া নিল শাড়িটা পরেছে আজ।
নিল শাড়িতে তাকে অপরুপ লাগছে। কিছু কিছু মানুষের
জন্য কোনো বিশেষ রং তৈরি। নিল রঙটা হয়ত নিলীমার
জন্যই তৈরি।
চাঁদের আলোতে অপরুপ লাগছে কেন আজ নিলীমাকে? -
নিলয় মনে মনে ভাবতে থাকে।
নিলয় পরেছে হলুদ পাঞ্জাবি।
- তুমি এটা কি পরেছ?
- এটা একটা পোশাক নিলা। বাংলায় এটাকে
পাঞ্জাবি বলে।
- তা আমি জানি। কিন্তু তাই বলে হলুদ। তুমি জানোনা
হলুদ আমার অপছন্দের রং।
- জেনে নিলাম।
- এক কাজ করো,তাড়াতাড়ি পাঞ্জাবিটা খুলে
ফেলো। আমি এখন এটাকে পুড়াব। চাঁদও হাসবে আমার
কান্ড দেখে।
- সত্যিই পুড়াবে?
- না। আজ থাক। আজকের রাতটা নষ্ট করতে চাইনা
নিলয়।
- আচ্ছা আজ যেন কি?
- আজ পূর্নিমা। পূর্ন পূর্নিমা।
- ও
- তোমার মনে আছে আজকের এই রাতটির স্বপ্ন আমরা
প্রথম কবে দেখেছি?
- ঠিক মনে নেয়।
- জানতাম মনে রাখবে না।
- বাহ তুমি তো বেশ বোঝো।
- হু। তা বটে।
- আচ্ছা নিলা বলোতো,পৃথিবী গোল কেনো?
- পৃথিবিটা গোল কারন তুমি আমার অপূর্নতা পূর্ন করতে
অবশ্যয় আমাকে খুজতে কিন্তু পৃথিবী গোল না হলে
আমাকে পেতে কোথায়?
- বাহ। তুমি বেশ বুদ্ধিমান। আমি অভিভূত।
- থাক আর পাম মারা লাগবে না।
নিলয় হাসতে থাকে। নিলা আজকাল অনেক গুছিয়ে কথা
বলছে। ব্যাপারটা নিলয়ের বেশ ভালো লাগছে।
- নিলা,একটু হাসতে ইচ্ছে হচ্ছে। তুমি কি আমাকে
হাসাতে পারবে?
নিলা কথার উত্তর দিলোনা।
- নিলয়, গতকাল আমার রুমে এসে বললো " মা,
তোর বাবা অনেক খুশি হয়েছে। তুই উনার দেখানো
পাত্রকে বিয়ে করতে চেয়েছিস তাই।"
আমি বললাম," বাবা কি ভাবছেন?"
- বলছিলো তোর বিয়ের দিন নাকি ঘোড়ার পিঠে করে
তোকে শশুর বড়ি পাঠাবে।
- মা; এটা সত্যিই অদ্ভুত। তবে ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে
গেলে সমস্যা বেধে যাবে। বাবাকে বরং অন্য কিছু
ভাবতে বলো।
- তুই শুধু সবকিছুতে খুনসুটি করিস।
- আচ্ছা মা,একটা কথা বলি?
- বল।
- আমি যদি বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে না করি
তাহলে কি বাবা আমাকে ঐ ঘোড়া দিয়ে লাথি
দেওয়াবে?
নিলয় এবার সত্যিই হাসি আটকাতে পারলো না। হাসতে
হাসতে মনে হলো গড়িয়ে পড়বে।
নিলা অদ্ভুত দৃষ্টতে তাকে দেখছে। নিলয় এত সুন্দর
হাসতে পারে? এটা নিলা আগে কখনো লক্ষ করেনি।
নাকি পরিবেশ তার হাসির সৌন্দর্যটাকে আরও
বাড়িয়ে দিচ্ছে? হয়ত তাই। একই হাসি দেখতে একেক
পরিবেশে একেক রকম লাগে।
- নিলা।
- বলো।
- আজ আমার হাত ধরে হাটবে?
নিলা উঠে দড়ালো। নিলয়ের হাত ধরে তাকে ছাদে
নিয়ে গেলো। ছাদে চাদের আলো আরও উজ্জল। এই
চন্দ্রালোকে দুজন কপত কপোতি হাত ধরাধরি করে
হাটছে। এর থেকেসুখানুভূতি আর কি হতে পারে?
- নিলা,কাল আমাদের বিয়ে।
- হুম জানি! আমরাই একমাত্র কপোত কপোতি যারা
বিয়ের আগের রাতে জোছনা দেখছি।
- হুম। চলো আজ রাতটা জোছনা দেখেই কাটিয়ে দিই।
নির্ঘুম।
- ঠিক আছে।
এখন নিলা আর নিলয় ছাদে বসে আছে। নিলয় চাদের
দিকে তাকিয়ে আছে আর নিলা তাকিয়ে আছে নিলয়ের
মুখের দিকে। কি পাগল এই ছেলেটা। কতো অদ্ভুত
ভঙ্গিতে জোছনা দেখছে। কতটা নিষ্পাপ লাগছে
তাকে। নিলা ক্ষনিকের জন্য ভুলে গেলো যে সে আজ
বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে,এই পাগলের হাত ধরে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন