শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

বিদায়ী কাব্য


              বিদায়ী কাব্য

_____________________________________
               - নাজমুস সাঈদ


আজকে বিদায় বেলায়-
এক হয়েছি আমরা সবাই প্রান্ত মিলনমেলায়,
আগামির ফুল ফোটাবি তোরাই
কুসুমে ফোটাবি প্রাণ
দেশও জাতির কান্তারি তোরা
প্রাণের রাখবি মান।

ভবিষ্যতের তোরাই কবি,তোরাই সাহিত্যিক
তোরাই জাতির বিবেকবোধ আর তোরাই দিক্বিদিক।

এখান থেকে বিদায় নিয়ে হাটবি নতুন পথে
ছিটিয়ে যাবি দিক্বিদিকে কেউ রবিনা সাথে।
স্মৃতির পাতা উল্টালে তবু পাবি আমাদের নাম,
নিন্মে পড়ে থাকলে কেহ দিবিনা তার দাম?

বড় হো তবু আকাশ সমান এই আশাতেই থাকি,
তোদের সবার জন্য আমি সুভকামনা রাখি;
জাতীর মুক্তি,জাতির প্রাপ্তি তোদের প্রত্যাশাতে
সম্মান তব জাতিসত্তার বইবে তোদের সাথে।

তোরা মুক্তির কান্ডারী দূত তোরাই তরুন সমাজ,
অতিতের কথা মনে করে বাচ
মনে মনে পাবি পরিমিত লাজ
তোদের বয়সে দিয়ে গেছে তারা তরুন তাজা প্রাণ,
তোরাও দিবি রাখতে সদা জাতিসত্মার মান।

জাতির বিবেক ম্লান করে আজ খুন হয় ছোট শিশু,
হে ভবিষ্যতের কর্নধারী করার কি নেয় কিছু?
অন্যায় আর অত্যাচারের করে যাবি প্রতিবাদ
জীবন দিয়েই নিয়ে যাবি তোরা মুক্তির মহাস্বাদ।

পারববিনা আজ কথা দিতে তোরা চলবিনা ভুল পথে?
বন্ধুগণ চল হাত তুলি আজ এই মহাশপথে-
চলব সদা নির্ভীক আর সত্যনিষ্ঠ মনে
বিবেকবোধ এর মৃত্যু হতে দেবনা কনোক্ষনে,
রাখব জাতির সম্মান আর জাতিসত্তার মান
দরকার হলে দিয়ে যাবো সবে আমাদের তাজা প্রাণ,
ঘুষের টাকায় গড়বোনা কেহ সম্পদেরই পাহাড়,
ন্যায়বোধটুকু দেবনা ক্ষয়িতে যদিওনা জোটে আহার।

অনেক দিনের পথচলাতে রইলি মোদের সাথে,
নতুন আশার দিশাই তোরা ছুটবি নতুন পথে,
পিছন ফিরে দেখবিনা কভু কি আছে স্মৃতির পাতাই
দেখবিনা কভু কি লেখা আছে মুক্ত মনের খাতাই।

সবার কথা ভেবে আজ তোরা খুলে দে নিজ মন
কত আশাই বুক বেধেছে তোদের আপনজন।
দেখেছিস কি তাকিয়ে কভু মায়ের চোখের দিকে?
কত আশা, স্বপ্ন কত বয়ছে একেবেকে।
তোরাই দিবি মায়ের চোখের প্রতি ফোটার দাম,
দেশজনতা বন্ধুসকল করবে তোদের নাম।

শেষের বেলা দূঃখ নিয়ে বলছি আপন মনে,
তোদের কথা পড়বে মনে পুড়বো ক্ষনে ক্ষনে,
স্বরবো তবু তোদের কথা পড়ে মোর এই পদ্য-
স্মৃতির পাতাই রয়ে যাবে নাম,হবে তা অবিচ্ছেদ্য।


(উৎসর্গঃ কোর কেয়ার কোচিং এর বিদায়কালে বন্ধুদের )


আয়য়রে সখি আয়

 আয়রে সখি আয়

______________________
     - নাজমুস সাঈদ


আয়রে সখি আয়
প্রাণের সাথে প্রাণ মেলাবি
দুখ ভোলাবি তাই,
আয়রে সখি আয়।

অাখি যুগল অশ্রুসজল
তোর দুচোখে মায়ার কাজল,
ঐ দুহাতে মুছবি আঁখি
ভুলবো ব্যাথা তাই,
আয়রে সখি আয়।

দেখবো তোকে দুচোখ ভরে
অবাক চোখে অন্ধকারে
থাকবিনা তুই প্রাণের মাঝে
আমার অভিপ্রায়,
আয়রে সখি আয়।
.
চোখের জলে নাও ভাসাবি
আমিরে সেই নাউয়ের মাঝি
অশ্রু মুছে আনবো হাসি
এর কোন ভুল নাই,
আয়রে সখি আয়।

বালিকা


                 বালিকা

_______________________________________
           

               -নাজমুস সাঈদ


বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার
ক্ষুদ্র কুটিরে যখন সাপ খেলা করে নিংড়িয়ে আধার-
বালিকা! সত্যকে আমি জেনেছি বারংবার।
.
আমার কলাপাতার আচ্ছাদনে ঢাকা শৈশব ছিলো,
বই খাতাতে মনোযোগী এক কৈশোর ছিলো,
এখন যুবক আমি -
তোমার ঘ্রাণে আপ্লুত হয়েছি ক্ষণকাল আগে
যৌবন মোর উপচে পড়া ভিড়ে নিংড়ে নিংড়ে হাটে,
ফুল দেখেছি, দেখেছি হালকা বাতাসে পাতার নড়ন-
আস্তে আস্তে হয়েছি বড়,পাতা ঝরেছে বৃক্ষের,
এই ঝরা পাতাই ঘর বেধেছি!
ভেঙ্গেছি!
আবার গড়েছি!
মনে আছে ফুলবন আচ্ছাদিত সেই দেওয়ালের কথা?
যেথা প্রতিটি ইটের সাক্ষী,
ভালোবাসা!
ভালোবাসি ভালোবাসি বলে চিৎকার দিয়েছো
অপলক চোখে তাকিয়ে থেকেছি ঐ আখিঁর পানে!
.
বার বার জিজ্ঞায়িছো মোরে- "কেন ভালোবাস?"
বলেছি, "ভালোবাসি, তাই ভালোবাসি!"
চাঁদের আলোয় যখন জোনাকিরা খেলা করে,
পুচ্ছালোকের প্রতি জ্বলন-নিভনে নতুনত্ব খুজে পাই-
এ যেন ভালোবাসার পরশমণি!
.
বালিকা! ভালোলাগার তো কোন কারন হয়না,
"ভালোলাগে,তাই ভালোলাগে!"
তাইতো ভালোবাসি!
.
ঐ আঁখিদ্বয় করেছো কুঞ্চিত-
বোঝনি কারন তো কারন নয় এতো মনের আত্মপ্রকাশ!
তাইতো ভালোবাসার কারণ থাকতে নেই-
ফিরে তাকিয়েছি আখিঁর পানে দেখেছি নোনাজলের
সমুদ্র!
এ কান্না কি তবে মিথ্যে?
বালিকা! আমি সত্যই জেনেছি বারংবার।

খোদার কথা বল


        খোদার কথা বল

______________________________
            - নাজমুস সাঈদ


মৃত্যু আমার নিত্য সাথি,জগত জ্ঞাতীর দল
বলবেনা কেউ তোমায় রেখে,আমায় নিয়ে চল,
এ ভূবনের জ্ঞানের পাহাড়,
স্বৈরাচারীর বিলান আহার,
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল!
তাই জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

মুসলিম তোর ঐ জানাজায় শরীক যারা হয়,
হোক সে শ্রমিক হোক সে রাজায় ফেরেস্তারাও রয়।
প্রাণের আখি বন্ধ হলেই সবাই তোমার পর,
এতদিনের জমাজমি দালান বাড়িঘর;
এসব কিছুর কেউ যাবেনা যাবে আখির জল,
জগৎ জ্ঞানের প্রান্ত ছেড়ে খোদার কথা বল।

নির্মলেন্দু গুন


               নির্মলেন্দু গুণ

_________________________________________
                 - নাজমুস সাঈদ


কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে,
নিন্দুকেরা শুনে রাখ আজ, ফুটিয়ে তুলছি বিবৃতে
কবিতার খাতা খুলে রেখেছি নিভৃতে।

বাংলাদেশের কাল বেলাতে,ফুটেছে রক্ত কবিতা,
দেখেছেন কবি অন্তরালে, নতুন আশার ছবিটা;
লিখেছেন তিনি, ভেবেছে সবাই, সংগ্রামী মনোচিত্তে,
নতুন আশা জেগেছে মননে, দূরাশা নিতিনিত্যে;

পেয়েছি নতুন দেশের মাটি সংগ্রামীদের প্রয়াসে,
কবির কলম ছিলোনা থেমে,বসে নেই তবু আয়াসে।

চলছে চলুক বিশ্বমাঝে, হ্রদয় গলুক সবে,
একুশে পদক করেছে গ্রহন আত্মনিষ্ঠ ভবে -
নিন্দুকেরা ভুলেছে সবি, কান পেতে আজ শুন
চেতনায় মোর, অন্তস্তলে নির্মলেন্দু গুণ।

গ্রামের দেশে


          গ্রামের দেশে

____________________________
           

-নাজমুস সাঈদ


সবুজে সবুজ মিলিয়ে আজ হচ্ছি একাকার,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

গ্রাম্য মেয়ের চলন বলন
দেখছি করে মুগ্ধ নয়ন,
পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গেছে দেখছি নদীর পাড়,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

মাছ শিকারের জাল দেখছি,
নাওয়ের মাঝির হাল দেখছি,
গ্রাম্য পথের বাক দেখছি,দিচ্ছে উজান পার -
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

আলো ছায়ার মিল দেখছি,
উড়ন্ত গাংচিল দেখছি,
সবুজ মাঠের প্রান্ত খুজে, হচ্ছি নিরাকার-
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

হঠাৎ এলো বৃষ্টি নেমে,
রেলের গ্লাস আজ যাচ্ছে ঘেমে,
ধুলাই ভরা এই প্রকৃতি সাজছে নতুন সাজ,
রেলগাড়িরই একটি কোনায়
মাতছি আমি দস্যিপনাই
ভেজা গ্লাসের প্রান্ত দিয়ে দেখছি এসব আর,
রেলের পাশে,গ্রামের দেশে, দেখছি সমাহার!

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রাত পোহালে প্রাতে


   রাত পোহালে প্রাতে
_____________________
     -নাজমুস সাঈদ


বৃদ্ধাশ্রমে ঘুমায় মাতা
গগন ঘুমায় রাতে,
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।
বৃদ্ধ মাতার ব্যস্ত ছেলে
কাজ করে দিন সন্ধা মিলে
সময় যে নেই হাতে!
রাত্রি বেলা ফিরে ঘরে
অর্ধাঙ্গিনী সঙ্গে নিয়ে
রয় যে দুধে ভাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

সুখের পাখি, নিরব আঁখি তুলে
খাচ্ছে মাথা ছেলের যে আজ
মায়ের সোহাগ ভুলে;
ভুলছে ছেলে মায়ের সোহাগ,
ভুলছে বাবার নিরব বিরাগ,
খরচ অনেক ছেলের যে তার
পড়লো বয়স সাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

রাতের খাবার সামনে নিয়ে
বৃদ্ধ মাতা ভাবে,
খেয়েছে কি ছেলে আমার?
দেখেছি সেই কবে!
আমি যেমন ভাবছি কথা
ছেলেও কি মোর ভাবে,
মা টা আমার খেয়েছে কি
অনাহারেই রবে?

কাল ছেলেরই জন্মদিনে,
কোরমা,পোলাও, পনির মিলে
দারুন মজা হবে,
বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট ঘরে
করবো দোয়া কাতর স্বরে
ওদের সুখের অশ্রু যেন
বিধি কেড়োনা এই ভবে,
শুভদিনে একটি পলক
দেখবো ছেলের মায়ার অলক
সময় কি তার হবে?
ওদের সুখের ছন্দ দেখে
রইব আমি দারুন সুখে
মৃত্যু মুখেও রাখবো আশীষ
তুলে এ দুই হাতে!
দুয়ের চোখেই অশ্রু ঝরে
রাত পোহালে প্রাতে।

এডমিশন বিড়ম্বনা


      এডমিশন

____________________
- নাজমুস সাঈদ (নাবিল)


দুইটা বছর নষ্ট নাকি?
ফাকির পড়া, পড়ায় ফাকি!
মধ্যরাতে ঝিমছি আমি
এসব ভেবেই খুলছি আঁখি,
নিদ্রা আমার অশান্ত আজ
দেয়না ধরা, কোন ইশারা?
ছদ্মবেশে দিচ্ছে পিষে
নিউরনেই ফটিক ছাড়া।

এডমিশনের সিজিন এলো
ঘুম মশায়ের চাকরি গেলো
বইয়ের পাতা উল্টে চলি
কালো কালির গদ্যকলি,
পরমানুর হালকা ভরেই
নিষ্পেষিত হচ্ছি সারা
ভিন্ন বইয়ের তথ্যাবলী
মিলছে না মন পাগলপারা!

কক্ষপথে ঘুরছি আমি
ইলেকট্রনের মাথায় চড়ে,
নিউট্রন ঐ নিউক্লিয়াসে
নিদ্রারত আয়েশ করে!
প্যাশ্চেন,ফুন্ড, লাইমেনেতে
দিচ্ছি পাড়ি মধ্যরাতে
বিকিরিত রশ্মি নিয়ে
ফিরছি বিকেল,সন্ধা, প্রাতে।

ফোটন কণা দিচ্ছে পাড়ি,
হিমোগ্লোবিন রাগছে ভারী,
কক্ষপথে ঘুরছি একা
চশমা ছাড়া যাইনা দেখা,
অরবিটালে ঘুরছি ডানে
বুঝছিনা এই ঘোরার মানে!

পলি, হুন্ড আর আউফবাউ এ
গুলছে মাথা, বুঝছি ছাতা!
কপারজি আর ক্যালসিয়ামে
লাল সবুজে হচ্ছে যা তা!

বোরের মডেল পড়তে গিয়ে
কক্ষপথের আকার একি!
দুইটা বছর নষ্ট নাকি?
ফাকির পড়ায়, পড়ায় ফাকি!